ল্যাব নয়, সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ কারিগরি কমিটির

কভিড-১৯ পরীক্ষার সংখ্যা ও মানোন্নয়নের জন্য পরীক্ষাগারের (ল্যাব) সংখ্যা বৃদ্ধির চেয়ে পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সরকারকে তাগিদ দিয়েছে জাতীয় কারিগরি পরামর্শ কমিটি। তারা বলছে, অটো-এক্সট্র্যাকশন মেশিনের সহযোগিতায় পরীক্ষাগারে কভিড-১৯ পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধি করা সম্ভব। গতকাল শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ পরামর্শের কথা জানায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধে গঠিত এ কমিটি। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এদিন কমিটির ১৪তম অনলাইন সভা অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় করোনার নমুনা পরীক্ষা বৃদ্ধি এবং আসন্ন কোরবানি ঈদ ও পশুর হাট নিয়ে বেশ কিছু প্রস্তাবনা গ্রহণ করা হয়। প্রস্তাবনায় বিভিন্ন পর্যায় থেকে দক্ষ জনশক্তিকে কভিড-১৯ পরীক্ষাগারে নিয়োগ দিতে বলা হয় এবং পরবর্তীতে কোনো স্থানে কভিড-১৯ পরীক্ষার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যার সৃষ্টি হলে সেসব স্থানকে ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে শনাক্ত করে সমাধানের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়া কভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য নমুনা দেওয়া থেকে পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া পর্যন্ত সময় কমানো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করা হয়। কারণ পরীক্ষার তথ্য দেরিতে পৌঁছালে আইসোলেশন ও নিয়ন্ত্রণ সম্ভবপর হয় না। এক্ষেত্রে পরীক্ষার ফলাফল দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

এন্টিজেন বেজড কভিড-১৯ পরীক্ষার অনুমতির জন্য ঔষধ প্রশাসনকে পরামর্শ দেয় কমিটি, যাতে করে অতিসত্বর করোনা পরীক্ষার সুযোগ প্রান্তিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যায়। এ ছাড়া আরটি পিসিআর টেস্টিং কিট এক প্রতিষ্ঠান থেকে সরবরাহের পরিবর্তে কতিপয় প্রতিষ্ঠান থেকে সরবরাহের ব্যবস্থা করতে বলা হয়, যাতে টেস্টিং কিটের সংকট সৃষ্টি না হয়। পাশাপাশি একই ধরনের টেস্টিং কিটের পরিবর্তে অধিকতর উন্নত এবং সুলভ মূল্যের টেস্টিং কিট জোগাড়ের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

প্রস্তাবনায় প্রসূতি মায়েদের বিষয়ে বলা হয়, বিভিন্ন হাসপাতালে কভিড-১৯ আক্রান্ত ও আক্রান্ত নন এমন প্রসূতি মায়েদের চিকিৎসার জন্য অতিসত্বর আলাদা ইউনিট গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়া কভিড-১৯ আক্রান্ত প্রসূতি মায়েদের সেবার জন্য পিপিই সরবরাহ নিশ্চিত করতে বলা হয়।

প্রবীণদের বিষয়ে বলা হয়, তারা কভিড-১৯ আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি এবং বিভিন্ন কারণে তারা কভিড পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের স্থানে যেতে সক্ষম হচ্ছেন না, ফলে প্রবীণদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় তাদের সহজভাবে অথবা বিশেষভাবে কভিড-১৯ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং সম্ভব হলে বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করার জন্য আহ্বান জানানো হয়।

করোনা চিকিৎসার বিষয়ে কমিটির আরও কিছু প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছেÑ সঠিক মান নিয়ন্ত্রণ ও সঠিক মূল্যে হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা ক্রয় নিশ্চিত করা, কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের হয়রানি কমিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে খালি শয্যার তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রতিদিন দেওয়া ও নির্দিষ্ট হাসপাতালের সামনে ডিসপ্লে করা এবং আন্তঃহাসপাতাল নেটওয়ার্কিংয়ে একটি হাসপাতাল অপর হাসপাতালের খালি শয্যার তথ্য পাওয়ার ব্যবস্থা করা, যাতে রোগীদের সঠিক হাসপাতালে পাঠাতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে কভিড-১৯-এর ভ্যাকসিন প্রস্তুতের বিষয়টিকে জাতীয় কারিগরি পরামর্শ কমিটি স্বাগত জানায়। তবে এ ক্ষেত্রে কমিটির পরামর্শ হলো, ভ্যাকসিন প্রস্তুত অথবা আবিষ্কার অবশ্যই সরকার, বিএমআরসি ও ঔষধ প্রশাসনের অনুমোদনক্রমে এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুসরণ করে করতে হবে।

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জাতীয় পরামর্শক কমিটি ঢাকা ও তার আশপাশের এলাকায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের পাশাপাশি ঈদের ছুটিতে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রাম থেকে অন্যান্য স্থানে যাতায়াত বন্ধ রাখার পরামর্শ দেয়। তাছাড়া ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে পশুর হাট স্থাপন না করতে বলা হয়, এক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পশু কেনাবেচার ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। অন্যান্য জায়গায় পশুর হাট বসার ক্ষেত্রে কমিটি বেশকিছু পরামর্শ দেয়। সেগুলোর মধ্যে আছেÑ শহরের অভ্যন্তরে হাট না বসানো, খোলা ময়দানে হাট বসানো, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা, পঞ্চাশোর্ধ্ব ও অসুস্থ ব্যক্তিরা পশুর হাটে না যাওয়া, হাটে প্রবেশ ও বাহিরের পৃথক রাস্তা থাকা, হাটে আগমনকারী সকল ব্যক্তির মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক করা, কোরবানির পশু বাড়িতে জবাই না করে শহরের বাইরে সিটি করপোরেশনের দ্বারা নির্ধারিত স্থানে করা এবং অনলাইনে অর্ডারের মাধ্যমে বাড়ির বাইরে কোরবানি দেওয়া সম্ভব হলে তা করার জন্য উৎসাহিত করা।