শিশুর জন্য নিয়মানুবর্তিতা

অনেক বাবা-মা সন্তানের নিয়মানুবর্তিতা নিয়ে চিন্তিত থাকেন। অথচ  সঠিক কৌশল অবলম্বন করলে সন্তানের মধ্যে নিয়মানুবর্তিতা তৈরির কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়। নিয়মানুবর্তিতা শেখানোর অর্থ হচ্ছে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখানো। জেনে নিন, নিয়মানুবর্তিতা শেখানোর কিছু কৌশল। জানালেন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট তানজির আহমেদ তুষার

কখন থেকে

ছয় মাস বয়স থেকেই নিয়মানুবর্তিতা শেখানোর কাজ শুরু হয়। যখন থেকে সে খামচি দেয় বা চুল টেনে ধরে তখন বলতে হয়, ‘না সোনা, এমনটা করলে ব্যথা লাগে’। যদিও সে আপনার বলা শব্দগুলো সম্পূর্ণ বোঝে না, তবু আপনার অসম্মতিসূচক মুখভঙ্গির মাধ্যমে সে বুঝতে পারবে কোন কাজটি করা ঠিক নয়। স্কুলে যাওয়ার বয়সের কিছু আগে থেকে শিশুরা আরও ভালো করে বুঝতে পারে কোন কাজটি করা ঠিক ও কোনটি ঠিক নয়।

পরিষ্কার করে বলুন

কোন পরিবেশে তাকে কী করতে হবে তা তাকে আগেই জানান। অনেক সময় বাচ্চারা একঘেয়েমি অনুভব করে বিভিন্ন শৃঙ্খলাভঙ্গের কাজ করে ফেলে। তাই পরিবেশ অনুযায়ী কীভাবে সে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পারে, তার পরিকল্পনা করতে সাহায্য করুন।

নিয়ম প্রতিষ্ঠা করুন

বাসার নিয়মকানুনগুলো দ্ব্যর্থহীনভাবে বলুন। নিয়ম সবার জন্য একই রকম হতে হবে। না হলে তাদের মধ্যে নিয়মভঙ্গের প্রবণতা দেখা দিতে পারে। বয়সের কারণে নিয়মের কিছু পার্থক্য হলে কারণসহ ব্যাখ্যা করুন।

কিছু ভুল হতেই পারে

যেহেতু শিশু-কিশোর বয়সটা তাদের নিয়মানুবর্তিতার প্রশিক্ষণপর্ব, তাই প্রথমদিকে তাদের কিছুটা ভুল হতেই পারে। বাবা-মাকে বিষয়টি বুঝতে হবে এবং ধৈর্য ধরে তাদের সংশোধন হওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

বয়স অনুযায়ী নিয়ম

বয়স অনুযায়ী নিয়মানুবর্তিতার প্রশিক্ষণ দিতে হবে। বয়ঃসন্ধিকালের প্রথমদিক পর্যন্ত নিয়ম-শৃঙ্খলা বারবার মনে করিয়ে দিতে হয়। কম বয়সী শিশুদের মনোযোগসীমা কম থাকায় তারা বারবার নিয়মগুলো ভুলে যায়। তাই এ সময়ে তাদের বারবার নিয়মগুলো মনে করিয়ে দিতে হয়। উল্টোদিকে টিনএজে মনে করিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে তাকেই প্রশ্ন করার মাধ্যমে শেখাতে হয়। এ সময়ে তাকে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব দিতে হয় ও তা পালন করতে শেখাতে হয়। টিনএজদের বারবার মনে করিয়ে দিলে তারা বিরক্ত হয়। কারণ তারা মনে করে তারা বেশ বড় হয়েছে এবং ভালোমন্দ বুঝতে শিখেছে।

ভালো আচরণের স্বীকৃতি

সঠিক আচরণে মনোযোগ দিলে তাদের মনোযোগের চাহিদা কমে। ফলে শিশুর মধ্যে নেতিবাচক আচরণ করার প্রবণতা কমে যায়। তাই সন্তানের ভালো আচরণ বা নিয়মানুবর্তিতার জন্য সহায়ক আচরণের স্বীকৃতি ও এর প্রশংসা করলে তার মধ্যে নিয়মানুবর্তিতা বাড়বে।

যা অকার্যকর

সন্তানকে অপমান, উপহাস, চড়থাপ্পড়, মারধর, মারধরের হুমকি, বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া বা বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া, গালি দেওয়া, বিকৃত নামে ডাকা, বারবার ঘ্যান ঘ্যান করে বলতে থাকা ইত্যাদির মাধ্যমে অনেক বাবা-মা নিয়মানুবর্তিতা শেখানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু এগুলো তা শেখানোর জন্য শুধু অনুপযোগীই নয় বরং সন্তানের বিকাশের জন্য খুবই ক্ষতিকর। নেতিবাচক আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনে টাইম আউট, রেসপন্স কস্ট, টোকেন ইকোনমি পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। ইতিবাচক আচরণের জন্য প্রশংসা করতে হবে।