সিলেট বিভাগীয় ট্যাঙ্কলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন রিপনকে (৪২) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে দক্ষিণ সুরমার বাবনা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় রিপনের সঙ্গে থাকা বাবলা আহমদ তালুকদার নামে আরেকজনকে কোপানো হয়। তাকে গুরুতর অবস্থায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাত পৌনে ১০টার দিকে রিপন ও বাবলা মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। এ ঘটনায় রিপনের স্ত্রী ফারজানা আক্তার তমা বাদী হয়ে ১৩ জন আসামির নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৭ জনের বিরুদ্ধে দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা করেছেন। মামলায় সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার মতিন ভূঁইয়াকেও আসামি করা হয়েছে। দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত একজন ও সন্দেহভাজন আরেকজনকে আটক করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে রিপন তার দোকান বন্ধ করে ওই মার্কেটের মালিক বাবলা আহমদ তালুকদারের সঙ্গে মোটরসাইকেলে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। বাবনা মোড়ে পৌঁছামাত্র পূর্ববিরোধের জেরে অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা তাদের ওপর হামলা করে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তারা ইকবাল হোসেন রিপনের পেছনের দিকে কোপ দেয়। এসময় বাবলা আহমদকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। রিপন ও বাবলা প্রাণরক্ষায় দৌড় দেন। তখন রিপনকে ধাওয়া করে রেলগেইট এলাকার সিতারা হোটেলের সামনে ধরে ফেলে দুর্বৃত্তরা। এরপর উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত চলে যায়। এরপর ইকবাল হোসেন রিপনকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে শ্রমিক নেতা রিপন হত্যার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার সকাল থেকে সড়ক অবরোধ, টায়ারে অগ্নিসংযোগ, বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। এ সময় তারা হত্যার বিচার দাবি জানান। সকাল থেকে দূরপাল্লার বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল বিঘিœত হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। বিকাল ৩টার দিকে প্রশাসনের আশ্বাসে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
সিলেট বিভাগীয় ট্যাঙ্কলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মনির হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমির আলীসহ শ্রমিক নেতারা জানান, শ্রমিক নেতা ইকবাল হোসেন রিপনকে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। এই হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার করতে হবে।
শ্রমিক নেতারা জানান, গত ঈদের ৩ দিন আগে দক্ষিণ সুরমায় একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। জ্বালানি তেল বিক্রেতা ইউনুস মিয়ার দোকানের ক্যাশ বাক্স থেকে ৩ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় এজাজুল, রিমু ও মুন্নার নেতৃত্বে ৭-৮ জনের একটি দল। এ ঘটনায় ইউনুস মিয়া বাদী হয়ে দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা করেন। এই ছিনতাই ঘটনার প্রতিবাদে শ্রমিক নেতা ইকবাল হোসেন রিপন সোচ্চার ছিলেন। তিনি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে বারবার বলেছিলেন। এরপরও আসামিরা গ্রেপ্তার হয়নি।
শ্রমিক নেতারা দাবি করেন, উক্ত ছিনতাই মামলার আসামিরা বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। তারাই পরিকল্পিতভাবে ইকবাল হোসেন রিপনকে হত্যা করেছে।
দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি খায়রুল ফজল জানান, রিপন হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। আসামিদের মধ্যে সিলেট রেলস্টেশন মাস্টার মতিন ভূঁইয়াও রয়েছেন বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। ওসি আরও জানান, মামলার এজাহারভুক্ত আসামি দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দির মৃত মাসুদ কবিরের ছেলে নোমান আহমদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে বরইকান্দির বশির মিয়ার ছেলে আতাউর রহমান সাদ্দামকে। শনিবার বিকালে আদালতের মাধ্যমে এদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।