সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরি ইউনিয়নের ঠুটিয়া কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মহররম হোসেনকে(৫২) হত্যার প্রতিবাদে ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে ওই কলেজ ও হাই স্কুলের প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক ও কর্মচারীরা মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন।
রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আধা ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ গাজী মোয়াজ্জেম হোসেন।
এ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন ছাত্র আব্দুল্লাহ আল মামুন, আকাশ মিয়া, মাসুদ হোসেন, রবিউল ইসলাম, কলেজ শাখার অধ্যক্ষ কামাল পাশা, সহকারী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, প্রভাষক মাসুদুর রহমান, স্কুল শাখার প্রধান শিক্ষক মীর আইয়ুব আলী প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, শিক্ষক মহররম হোসেন আত্মহত্যা করেননি। তাকে তার সৎ ভাইয়েরা সম্পত্তির লোভে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর গাছের সাথে লাশ ঝুলিয়ে রেখে এটাকে আত্মহত্যা বলে অপপ্রচার করছে। বাগাতিপাড়া থানা পুলিশ খুনিদের রক্ষায় কাজ করছে। ফলে সুরতহাল রিপোর্ট ও ময়নাতদন্ত দায়সারাভাবে হয়েছে। এ ঘটনাকে ধাপাচাপা দিতে তড়িঘড়ি করে লাশ দাফন করা হয়েছে। আমরা এ হত্যাকাণ্ড সঠিক তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।
উল্লেখ্য, গত ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার ডুমরাই সরকারপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ির পাশের একটি গাছের সাথে রশিতে বাঁধা ও মাটিতে বসে থাকা অবস্থায় শিক্ষক মহররম হোসেনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
তার ভাইয়েরা প্রচার চালায় তিনি ৮ জুলাই বুধবার গভীর রাতে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু তার এই আত্মহত্যার বিষয়টি সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা মেনে নিতে পারছেন না। তারা এটাকে পরিকল্পিত হত্যা দাবি করে এ হত্যা বিচার দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করেন।
এ বিষয়ে ওই কলেজের অধ্যক্ষ কামাল পাশা বলেন, মহররম হোসেনের বাবা মজিবর রহমান ৪টি বিয়ে করেছেন। প্রথম পক্ষের ৩ ভাই, দ্বিতীয় পক্ষের মহররম একাই, ৩য় পক্ষের ২ বোন এক ভাই ও ৪র্থ পক্ষের এক বোন ও ২ ভাই রয়েছে।
তিনি ৪র্থ পক্ষের মা, ভাই ও বোনের সাথেই থাকতেন। এর মধ্যে সাধু নামের এক ভাই ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। তিনি প্রায়ই মহররমকে টাকা-পয়সার জন্য চাপ দিতেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ফোনে রাগারাগি হতে দেখা গেছে।
এ ছাড়া তিনি সম্প্রতি বাড়িতে ৫/৬ রুম বিশিষ্ট একটি এল প্যার্টানের টিনসেড বিল্ডিং নির্মাণ করেছেন। গ্রামের বাড়িতে ৪/৫ বিঘা জমি কিনেছেন। পৈত্রিক সূত্রেও তিনি ১০ কাঠা সম্পত্তির মালিক। কিন্ত তিনি এতো বয়সেও বিয়ে করেননি। সম্প্রতি তার দেখাশোনার কেউ না থাকায় তিনি বিয়ের জন্য পাত্রীর খোঁজ করছিলেন। তার এই সহায় সম্পত্তি নিয়ে ভাইদের সাথে বেশ কিছুদিন হল ঝামেলা চলছিল। এসব কারণেই তিনি সৎ ভাইদের হাতে পরিকল্পিতভাবে খুন হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, তড়িঘড়ি করে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ কাউকে দেখতে না দিয়ে দাফন করা হয়। মহররম নিহতর খবর পেয়ে আমরা ৮/৯ জন শিক্ষক ও দেড় শতাধিক ছাত্র সেখানে ছুটে যাই। আমাদের লাশের কাছে যেতে দেওয়া হয়নি। দূর থেকে শুধু মুখ দেখতে দেওয়া হয়েছে। ভাইদের মধ্যে কোনো কান্নাকাটিও দেখতে পাইনি। ফলে সেখানেই আমাদের সন্দেহ হয়। পরে তার ঝুলে থাকা লাশের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে আমাদের হাতে এসে পড়লে আমরা হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হই। ছবিগুলো দেখলেই বোঝা যায় এটা একটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন, বিষয়টি শুনেছি। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাটোরের বাগাতিপাড়া থানার ওসি নাজমুল হক বলেন, আমরা সব বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত করছি। ময়নাতদন্তর রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।