মহামারী করোনায় প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে। আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে প্রায় অর্ধ লাখ। গত বছরের শেষের দিক থেকে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাস বিশ্বের ১১৫টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়েছে। ১ কোটি ২৮ লাখের বেশি মানুষের শরীরে শনাক্ত হয়েছে ভাইরাসটি। মারা গেছে প্রায় পৌনে ৬ লাখ মানুষ। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসাবে গতকাল রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে ৫ লাখ ৬৮ হাজার ৫৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
তবে ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, করোনায় বিশ্বের মোট মৃত্যুর ৭৫ শতাংশের বেশিই হয়েছে মাত্র ১০ দেশে। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, যুক্তরাজ্য, ইতালি, মেক্সিকো, ফ্রান্স, স্পেন, ভারত, ইরান ও পেরুতে মারা গেছে ৪ লাখ ২৯ হাজার ৯৭ জন।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে গতকাল পর্যন্ত মারা গেছে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪২৯ জন; যা বিশ্বের মোট মৃত্যুর ২৪ দশমিক ১৭ শতাংশ। দেশটিতে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যাও সবচেয়ে বেশি। এখন পর্যন্ত সেখানে শনাক্ত হয়েছে ৩৩ লাখ ৫৭ হাজার ৯২৮ জন।
এরপর ব্রাজিলে মারা গেছে ৭১ হাজার ৫১৫ জন; যা বিশ্বের মোট মৃত্যুর ১২ দশমিক ৫৮ শতাংশ। দক্ষিণ আমেরিকার এ দেশটিতে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যায় বিশ্বে দ্বিতীয়। সেখানে শনাক্ত হয়েছে ১৮ লাখ ৪২ হাজার ১২৭ জন করোনা রোগী।
ইউরোপের দেশ যুক্তরাজ্যে গতকাল পর্যন্ত মারা গেছে ৪৪ হাজার ৭৯৮ জন। এ সংখ্যা ইউরোপের অন্য সব দেশের চেয়ে বেশি। দেশটিতে মারা যাওয়া এই মানুষের সংখ্যা বিশ্বের মোট মৃত্যুর ৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এরপর ইতালিতে মারা গেছে ৩৪ হাজার ৯৪৫ জন; যা বিশ্বের মোট মৃত্যুর ৬ দশমিক ১৫ শতাংশ।
মহামারী করোনায় মেক্সিকোতে মৃত্যু হয়েছে ৩৪ হাজার ৭৩০ জনের; যা বিশ্বের মোট মৃত্যুর ৬ দশমিক ১ শতাংশ।
ফ্রান্সে মারা গেছে ৩০ হাজার ৪ জন; যা বিশ্বের মোট মৃত্যুর ৫ দশমিক ২৭ শতাংশ। ইউরোপের আরেক দেশ স্পেনে গতকাল পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ৪০৩ জনের, যা বিশ্বের মোট মৃত্যুর ৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ। এশিয়ার দেশ ভারতে গতকাল পর্যন্ত মারা গেছে ২২ হাজার ৭৬২ জন, যা বিশ্বের মোট মৃত্যুর ৪ শতাংশ। ইরানে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ১২ হাজার ৮২৯; যা বিশ্বের মোট সংখ্যার ২ দশমিক ২৫ শতাংশ। করোনায় পেরুতে মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যা ১১ হাজার ৬৮২ জন, যা বিশ্বের মোট মৃত্যুর প্রায় ২ শতাংশ।
ওপরের পরিসংখ্যানগুলোর হিসাবে দেখা যাচ্ছে, গতকাল পর্যন্ত উল্লিখিত ১০ দেশেই ৭৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ মানুষ মারা গেছে। এ ছাড়া শীর্ষ ২০ দেশের বাকি ১০ দেশের মধ্যে রাশিয়ায় ১১ হাজার ৩৩৫, বেলজিয়ামে ৯ হাজার ৭৮২, জার্মানিতে ৯ হাজার ১৩৪, কানাডায় ৮ হাজার ৭৭৩, চিলিতে ৬ হাজার ৮৮১, নেদারল্যান্ডসে ৬ হাজার ১৩৭, সুইডেনে ৫ হাজার ৫২৬, তুরস্কে ৫ হাজার ৩৪৪, পাকিস্তানে ৫ হাজার ১৯৭ ও কলাম্বিয়ায় ৫ হাজার ১১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।