আইনি ব্যাখ্যা দিয়ে ওয়ান ব্যাংকের অপসারিত পরিচালকের চিঠি

আইনি ব্যাখ্যা দিয়ে নিজেকে ব্যাংকের বৈধ পরিচালক দাবি করেছেন ওয়ান ব্যাংকের চেয়ারম্যান সাঈদ হোসেন চৌধুরী। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও বিআরপিডির মহাব্যবস্থাপককে এ দাবি জানিয়ে একটি চিঠি দিয়েছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

চিঠিতে ওয়ান ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার চিঠিটি পর্যালোচনার অনুরোধ জানান। সেই সঙ্গে তার অব্যাহতিপত্রটি প্রত্যাহারের আহ্বানও জানান তিনি। এছাড়া তাকে ওয়ান ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানান সাঈদ হোসেন চৌধুরী।

ঋণখেলাপির দায়ে গত ৫ জুলাই বেসরকারি ওয়ান ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাঈদ হোসেন চৌধুরীকে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি ওয়ান ব্যাংককে এ সংক্রান্ত চিঠি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দেওয়া হয়েছে। এ অপসারণ ২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে বলে চিঠিতে বলা হয়েছে। ওই চিঠিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও উল্লেখ করেছে, তাদের অনুমোদন ছাড়া কাউকে ওই পদে বহাল করা যাবে না। যদিও সাঈদ চিঠিতে জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মোতাবেক সব কিছু করবেন তিনি। স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ঋণ নিয়েছিলেন সাঈদ হোসেন চৌধুরী। নিয়মিত ঋণ পরিশোধ না করায় তা খেলাপি হয়ে যায়। আইন অনুযায়ী, কোনো ঋণখেলাপি ব্যাংকের পরিচালক থাকতে পারেন না। তাই ওয়ান ব্যাংকের পরিচালক পদ থেকে তাকে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সাঈদ হোসেন চৌধুরী চিঠিতে বলেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভিযোগ সত্য নয়। ২০১৬ সালের ৩১ মার্চ ওয়ান ব্যাংকের পরিচালক নির্বাচিত হন তিনি। চিঠিতে সাঈদ আরও উল্লেখ করেছেন, বৈধভাবে নির্বাচিত কোনো ব্যাংক পরিচালক বা তিনি সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান সিআইবির (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো) প্রতিবেদনে ঋণখেলাপি হলে তাকে অপসারণের কোনো অধ্যাদেশ নেই ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১-এ। এছাড়া চিঠিতে তিনি আরও জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো পরিচালকের অনুমোদন না নেওয়ার দায় পরিচালকের ওপর পড়ে না। বরং এ দায় বর্তায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ওপর।