রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে বিএনপির দাবি

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সবাই দায়ী

বেসরকারি রিজেন্ট হাসপাতালকে করোনা টেস্টের অনুমতি দেওয়ার জন্য কে দায়ী তা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মধ্যে টাগ অব ওয়ার চলছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একে অপরকে দায়ী করছে। এ অবস্থায় বিএনপির নেতারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর উভয়কে দায়ী করে বলেন, রিজেন্ট হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয় দুই সচিবের উপস্থিতি প্রমাণ করে মন্ত্রণালয় দায়ী। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের যে ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে সে ছবি প্রমাণ করে মন্ত্রণালয় দায়ী। কারণ অন্য একাধিক প্রতিষ্ঠানকে করোনা পরীক্ষার অনুমতি দিলেও তাদের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মন্ত্রী কিংবা দুই সচিব উপস্থিত ছিলেন না। তারা অবিলম্বে স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে বরখাস্ত করে গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবি জানিয়েছেন। 

এ বিষয়ে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন গতকাল সোমবার দেশ রূপান্তরকে বলেন,  চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ দুই সচিবের উপস্থিতিই প্রমাণ করে মন্ত্রণালয়ের চাপেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রিজেন্টের সঙ্গে চুক্তি করেছেন। কারণ সাধারণত এ ধরনের চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরই যথেষ্ট। 

বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চুক্তির বিষয়ে কী নিয়ম রয়েছে জানতে চাইলে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এসব ক্ষেত্রে সাধারণত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একাই সিদ্ধান্ত নেয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যে কোনো একজন পরিচালক চুক্তি স্বাক্ষরের আগে বেসরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করে একটি নোট দেবেন। এরপর মহাপরিচালক নোটের ওপর স্বাক্ষর দেবেন। এখানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো কাজ নেই।  

রিজেন্টের মালিক সাহেদ হাওয়া ভবনের লোক বলে সরকারের মন্ত্রী ও সরকারি দলের নেতারা যেসব বক্তব্য রাখছেন সে বিষয়ে মোশাররফ হোসেন বলেন, হাওয়া ভবনের লোক হয়ে থাকলে সে এতদিন আওয়ামী লীগের পররাষ্ট্র উইংয়ের সদস্য হলো কীভাবে? সাহেদের মতো নর্দমার কীট তৈরি করেছে কারা? কাদের পাশে দাঁড়িয়ে সাহেদ ছবি তুলেছে। ছবিই কথা বলে।

গত ৬ জুলাই উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযান চালায় র‌্যাব। এতে টেস্ট না করেই কভিড-১৯ ‘পজিটিভ’ ও ‘নেগেটিভ’ সনদ দেওয়ার বিষয়টি অভিযানে উঠে আসে। এরপর গত ৯ জুলাই লাইসেন্সের মেয়াদ নবায়ন না করেই রিজেন্ট হাসপাতাল কীভাবে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালের সনদ পেয়েছে অধিদপ্তরের কাছে তার ব্যাখ্যা তলব করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। গত ১১ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সে সময় রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি করে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই গত ১২ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের কাছে এর ব্যাখ্যা চেয়েছে। ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ’ বলতে তিনি কী  বোঝাতে চেয়েছেন আগামী তিন কর্যদিবসের মধ্যে তার ‘সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা’ দিতে বলেছে মন্ত্রণালয়।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এখন ইঁদুর-বিড়াল খেলছে। জাতি ও দেশের জন্য এটি দুর্ভাগ্যের বিষয়। তারা দেশের অনেক ক্ষতি করেছে। বিদেশে দেশের ইমেজ নষ্ট করেছে। প্রথমে করেছে মাস্ক কেলেঙ্কারি। এরপর ভুয়া করোনা সার্টিফিকেট দিয়েছে তার অনুমোদন পাওয়া বেসরকারি হাসপাতাল রিজেন্ট ও জিকেজি হেলথ কেয়ার। এই ভুয়া সার্টিফিকেটের কারণে হাজার হাজার মানুষের বিদেশ যাওয়া বন্ধ হয়েছে। এরা দেশ ও জাতির শত্রু। এই অপরাধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে গ্রেপ্তার করে তাদের বিচার করা উচিত।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রি. জে. মাহবুবুর রহমানকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাওয়ার আগে তিনি লিখিত বক্তব্যে সবকিছু লিখে গেছেন। বর্তমান করোনায় আক্রান্ত হয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিএনপি সমর্থক চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব অধ্যাপক ডা. হারুণ অর রশীদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, রিজেন্ট হাসপাতাল করোনা টেস্টের অনুমতি পাওয়ার পর থেকেই অনিয়ম করেছে। শেষ পর্যন্ত করোনার ভুয়া রিপোর্ট দিতে গিয়ে তাদের অনিয়মের বিষয়টি ধরা পড়েছে। করোনাভাইরাসের চিকিৎসাসহ সার্বিক বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ব্যর্থ হয়েছে। তাই স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবার বিচার হওয়া উচিত।