সাহেদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা চট্টগ্রামে

করোনা পরীক্ষার ভুয়া সনদসহ বহুমাত্রিক জালিয়াতিতে আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে ৯১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেছেন চট্টগ্রামের এক ব্যবসায়ী। গতকাল সোমবার বিকেলে ডবলমুরিং থানায় মামলাটি করেন মো. সাইফুদ্দিন (৫৫) নামে এক ব্যক্তি। তিনি গাড়ির টায়ার ও যন্ত্রাংশ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স মেগা মোটরসের মালিক জিয়াউদ্দিন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের পক্ষে মামলাটির বাদী হয়েছেন। ডবলমুরিং থানার ওসি সদীপ কুমার দাশ জানান, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন তার চাচাতো ভাই জিয়াউদ্দিন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের পক্ষে বাদী হয়ে সাহেদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেছেন। ঢাকার রাস্তায় তিন চাকার যাত্রী বহনকারী যানবাহন চলাচলের জন্য বিআরটিএ’র ভুয়া অনুমতিপত্র সরবরাহ করে এই টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় সাহেদ করিম ছাড়াও মেসার্স মেগা মোটরসের সাবেক কর্মকর্তা শহীদুল্লাহকেও (৬০) আসামি করা হয়েছে। ৯১ লাখ ২৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৬৮, ৪৭১, ৪০৬, ৪২০ ও ৩৪ ধারায় এই মামলাটি হয়েছে।

তদন্ত করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ওসি সদীপ কুমার দাশ।

মামলার এজাহারে বলা হয়, মেসার্স মেগা মোটরসের আমদানি করা থ্রি-হুইলার ঢাকায় চলাচলের রুট পারমিটসহ চলাচলের আনুষঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি নিয়ে দেওয়ার কথা বলে সাহেদ করিম জিয়াউদ্দিন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে চেকের মাধ্যমে ২০১৭ সালের ২২ জানুয়ারি থেকে ৭ মার্চের মধ্যে মোট ৫৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। এছাড়া একই সময়ের মধ্যে নগদে আরও ৩২ লাখ টাকাসহ মোট ৯১ লাখ ২৫ হাজার টাকা গ্রহণ করেন সাহেদ করিম।

মামলার বাদী সাইফুদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘২০১৭ সালের ৫ মার্চ সাহেদ থ্রি হুইলার যান ঢাকার রাস্তায় চলাচলের জন্য বিআরটিএ চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত একটি পরিপত্র মেগা মোটরসকে হস্তান্তর করেন। বিআরটিএ অফিসে যোগাযোগ করে জানতে পারি সেটি ভুয়া। এরপর সাহেদ করিমকে জানালে তিনি আবারও অনুমতিপত্র এনে দেওয়ার কথা বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। বারবার অনুরোধ করলে সাহেদ করিম নিজে জিয়াউদ্দিনকে হুমকি-ধমকি দেন এবং এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাহেদকে নিয়মিত টকশোতে দেখা যেত। প্রভাবশালী সাহেদ আমাদের আরও কোনো ক্ষতি করতে পারে ভেবে আমরা চুপ ছিলাম। এখন আইনের আশ্রয় নিয়েছি।’