মধ্যপাড়া পাথরখনি

অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে যাচ্ছেন শ্রমিকরা

তিন মাসের বকেয়া বেতন-বোনাসসহ ছয় দফা দাবিতে টানা এক মাস আন্দোলন চালিয়ে আসছেন দিনাজপুরের মধ্যপাড়া পাথরখনির শ্রমিকরা। কিন্তু এর মধ্যে এসবের সুরাহা না হওয়ায় আজ মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ও অবরোধ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন তারা। গতকাল সোমবার খনি গেটের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ ও মানববন্ধন থেকে এ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। শ্রমিকরা জানান, করোনাসংকটে টানা তিন মাস বেতন না পেয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতন জীবন যাপন করছেন তারা। বকেয়া বেতন চেয়ে খনির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়ামের (জিটিসি) সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। পরে আলটিমেটাম দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও জিটিসির কোনো কর্মকর্তা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।

শ্রমিকরা জানান, করোনার কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়; যা পরবর্তী দুই মাস পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এর মধ্যে ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হলেও জিটিসি শ্রমিকদের খোঁজ নেয়নি। একাধিকবার চিঠি লিখে বেতন-বোনাস দাবি করলেও জিটিসি কোনো জবাব দেয়নি। এর মধ্যে ২২ জুন অবস্থান ধর্মঘট ও ১ জুলাই অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন শ্রমিকরা। তখন ১২ জুলাইয়ের মধ্যে দাবি না মেনে নিলে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, ‘টানা এক মাস শ্রমিকরা রাস্তা-পথে আন্দোলন করছেন। তারা আমাদের মানুষ মনে করেন না। অনেকবার চিঠি দিয়েছি, মোবাইল করেছি ফোন পর্যন্ত ধরে না। হাতে আর উপায় নেই। আমরা কাল (আজ) থেকে লাগাতার কর্মসূচি দেব। খনি বন্ধ করে দেব।’

এ বিষয়ে জানতে জিটিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জাভেদ সিদ্দিকীর মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলে তার ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানির (এমজিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ বি এম কামরুজ্জামানকে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি ধরেননি। তবে একই বিষয়ে গত ১৪ জুন কামরুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেছিলেন, গত ফেব্রুয়ারিতে জিটিসির চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। তারা আবারও খনির ঠিকাদারি পাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছিল। কিন্তু এর মধ্যে করোনা শুরু হলে তাদের আর কোনো সাড়া নেই। এমনকি তাদের শ্রমিকদের বিষয়টিও তারা দেখভাল করছে না। আমি নিজে কয়েকবার বিষয়টি তাদের জানিয়েছি, সাড়া পাইনি।

শ্রমিকদের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে ২৬ মার্চ থেকে পরবর্তী তিন মাসের বেতন ও ঈদবোনাস পরিশোধ, স্বাস্থ্যবিধি মেনে খনি চালু করা, ছয় বছর চুক্তিকালীন শর্ত অনুযায়ী যে ৫ ভাগ বেতন বৃদ্ধির কথা ছিল সেটি বাস্তবায়ন, শ্রমিকদের বেতনবৈষম্য দূর করা, ছয় বছরের চুক্তির মেয়াদে ৩ বছর খনি বন্ধ থাকায় ১৭ মাসের বেতন বকেয়া পরিশোধ ও ঝুঁকিভাতা-জীবন বীমা চালু এবং কথায় কথায় শ্রমিক ছাঁটাই না করা।