কভিড-১৯ মহামারীর কারণে ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য এবং বাজেট কমিয়ে আনার ফলে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৯৭ লাখ শিশু চলতি বছরের শেষ নাগাদ চিরকালের জন্য স্কুল ছাড়তে বাধ্য হতে পারে বলে সতর্ক করেছে দাতব্য সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন। গতকাল সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে দরিদ্র ও সবচেয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুরাই বেশি ঝুঁকিতে। এছাড়া মেয়েশিশুরাও আছে সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে।
সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, মূলত ইয়েমেন, আফগানিস্তান এবং পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার ১২টি দেশের শিশুরা করোনার কারণে জারি করা লকডাউন উঠে যাওয়ার পরও আর স্কুলে ফিরে না যাওয়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া একই ধরনের উচ্চ বা মাঝারি ঝুঁকিতে রয়েছে বিশ্বের অন্য আরও ২৮টি দেশ।
এতে আরও বলা হয়েছে, এপ্রিল মাসেই ১৬০ কোটি শিক্ষার্থীর স্কুল গমন বন্ধ হয়ে যায়। মানব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পুরো একটি প্রজন্মের শিক্ষা বাধাগ্রস্ত হলো। এছাড়া করোনা মহামারী শুরুর আগে থেকেই বিশ্বের ২৫ কোটি ৮ লাখ শিশু স্কুলে শিক্ষাগ্রহণ থেকে বঞ্চিত ছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেভ দ্য চিলড্রেনের পক্ষ থেকে প্রান্তিক শিশুদের মধ্যে পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, বন্ধ হওয়ার পর ৯০ শতাংশ শিশুর সঙ্গে স্কুল কর্র্তৃপক্ষ কোনো যোগাযোগ করেনি। ৯১ শতাংশের বাসায় পড়াশোনা করার মতো কোনো সহযোগিতা নেই (অভিভাবক বা বড় ভাই-বোন)। এর ফলে এই শিশুদের ৬৫ শতাংশ বাড়িতে সামান্য পড়াশোনা করছে এবং ২৩ শতাংশ পড়াশোনাই করছে না।
এতে আরও বলা হয়েছে, দরিদ্রদের মধ্যে পরিচালিত আরেকটি জরিপে দেখা গেছে, মহামারীতে তাদের আয় ৭০ শতাংশের বেশি কমেছে। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ তাদের কাজ হারিয়েছেন এবং এখন বেকার। এতে করে এসব পরিবারের নিত্যদিনের খরচ বেড়ে যাওয়াতে শিশুদের জোর করে শ্রমে পাঠানোর বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এই বাস্তবতায় করোনা পরিস্থিতিতে পরিবর্তিত শিক্ষাব্যবস্থা এবং বাজেট সংকটের কারণে শিক্ষাক্ষেত্রে ধনী-দরিদ্র এবং ছেলে-মেয়ে বৈষম্য আরও বেড়েছে জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সেভ দ্য চিলড্রেন।