২০৩৬ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন ভ্লাদিমির পুতিন!

ভ্লাদিমির পুতিন অনেকের কাছেই বিস্ময়কর চরিত্র। আর দশজন স্বৈরশাসকের মতো তিনি নন। নিজ দেশেও তাকে খুব বেশি নিন্দিত হতে হয়নি। অন্যতম পরাক্রমশালী একটি দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় তিনি টিকে আছেন প্রায় বিশ বছর ধরে।ধারণা করা হচ্ছে, এবার তার ক্ষমতার মেয়াদ ২০৩৬ পর্যন্ত ঠেকতে পারে। লিখেছেন জুবায়ের আহাম্মেদ

রহস্যময় পুতিন

ইন্টারনেট জগতে তাকে নিয়ে মাতামাতির শেষ নেই। তিনি জীবিত কি না, বাম হাতে লেখেন কি না, এমনকি তার ছেলে আছে কি না এসব নিয়ে মানুষের আগ্রহ তুঙ্গে। গুগলের দেওয়া তথ্য মতে, ভøাদিমির পুতিন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সার্চ করা পুরুষের মধ্যে অন্যতম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুতিনের বিভিন্ন ছবি নিয়ে তামাশা করা হয় হরহামেশাই। কিন্তু এসব একপাশে সরিয়ে যদি রাখা হয়, ভøামিদির পুতিন বলতে গেলে আপাদমস্তক এক রহস্য উপন্যাস। রাশিয়ার মতো বিশ্বের অন্যতম এক শক্তিধর দেশে তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন বিশ বছর ধরে। রাশিয়ার তরুণ নাগরিকদের একটি বড় অংশ নিজেদের বুদ্ধি বিবেচনা হওয়ার পর পুতিন ছাড়া আর কাউকে ক্ষমতার মঞ্চেই দেখেনি। ২০০০ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন সাবেক এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা। প্রচণ্ড মেধাবী এই মানুষটি দুই মেয়াদে ক্ষমতায় ছিলেন ২০০৮ সাল পর্যন্ত। এরপর ক্ষমতায় থাকার আর পথ ছিল না তার সামনে। তাই তিনি হলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রেসিডেন্টের পদে এলেন তারই বিশ্বস্ত এবং অনুগত দিমিত্রি মেদভেদেভ। এরপর ২০১২ সালে আবার তিনি হলেন প্রেসিডেন্ট। এবারও দুই মেয়াদে ক্ষমতায় তিনি। মেয়াদ ছিল এই বছর পর্যন্ত। কিন্তু ভøাদিমির পুতিন বলেই কি না এত দ্রুত উপসংহার টানা যাচ্ছে না এই নাটকের। তার আগে ক্রেমলিন থেকে নজর সরাতে হবে সেন্ট পিটার্সবার্গে। যেতে হবে এতটাই পেছনে যখন সেন্ট পিটার্সবার্গের নাম ছিল লেনিনগ্রাদ।

লেনিনগ্রাদে

কোনো লড়াই যদি অবশ্যম্ভাবী হয়, তবে প্রথম আঘাতটা আপনাকেই করতে হবে। ২০১৫ সালে এভাবেই নিজের জীবনের শিক্ষার কথা ব্যক্ত করেছিলেন ভøাদিমির পুতিন। জন্ম তার ১৯৫২ সালের ৭ অক্টোবর। এমন একটা সময় যখন সবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসান ঘটেছে। বিশ্বমঞ্চে নিজেদের কর্তৃত্ব স্থাপনের যুদ্ধে একে অপরকে ক্রমাগত চ্যালেঞ্জ করে যাচ্ছে সোভিয়েত রাশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তেমনই এক অস্থির সময়ে জন্ম পুতিনের। খুব বড় ঘরে জন্ম হয়নি। বাবা ছিলেন কারখানার শ্রমিক। আর দাদা একজন বাবুর্চি। বলতে গেলে একটা শ্রমজীবী সমাজের প্রতিনিধি হয়ে তিনি এসেছিলেন পৃথিবীতে। আর এ কারণেই হয়তো বর্তমান রাশিয়ান সংবিধানে পুঁজিবাদী সব ব্যবস্থারই ব্যাপক বিরোধী তিনি।

মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর কথা মনে আছে? সাইকেল হারিয়ে যিনি বালক বয়সেই প্রতিপক্ষ ঘায়েলের নেশায় বক্সিং শিখেছিলেন? ভøাদিমির পুতিনের গল্প অনেকটা তেমনই। লেনিনগ্রাদের রাস্তায় খেলার সাথীদের বিপক্ষে একদিন ব্যাপক মার খেয়ে বসেন। সেদিনই সম্ভবত বুঝেছিলেন, লড়াই অবশ্যম্ভাবী হলে প্রথম আঘাত তাকেই করতে হবে। এই লড়াকু মনোভাব জন্মানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে শিখে ফেলেন। আজকের ভøাদিমির পুতিনের বীজ বপন হয়েছিল সেই লেনিনগ্রাদের রাস্তায়।

স্বপ্ন যখন সত্য

পুতিন এমন সময়ে জন্মেছিলেন, যখন রাশিয়ায় গুপ্তচর, গোয়েন্দা এ জাতীয় পেশার খুব বেশি মূল্যায়ন ছিল। তার শৈশবে এই পেশার মর্যাদা এবং গুরুত্ব দুই-ই বাড়তে থাকে। সেসময়ের রাশিয়া বা সোভিয়েত যাই-ই বলা হোক, শিশুদের মধ্যে একটা বড় স্বপ্ন ছিল দেশের সেবা করার। দীর্ঘ সময়ের শাসক স্ট্যালিন নিয়ে তখনো নেতিবাচক ঢেউ ওঠেনি দেশে। তার আদর্শের গুণগান চলছিল রাশিয়ার ঘরে ঘরে। সেই সময়ের হাজারো শিশুর মতো পুতিনও স্বপ্ন দেখেন দেশের সেবা করার। স্বপ্ন ছিল সোভিয়েত গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবির হয়ে কাজ করার। এ কারণেই হয়তো সেন্ট পিটার্সবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন নিয়ে পড়াশোনা করেও পুতিন কেজিবিতে যোগ দেন।

৮০-এর দশকে পশ্চিমা বিশ্বে গিয়ে রাশিয়াকে ক্রমাগত সেবা দিয়ে গিয়েছেন পুতিন। ১৯৮৫ সালে তাকে বদলি করা হয় পূর্ব জার্মানিতে। জার্মানির ডেসড্রেনে তিনি ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। এ কারণেই জার্মান ভাষাও ভালোই রপ্ত আছে রুশ প্রেসিডেন্টের। নিজের জীবনে গোয়েন্দা হওয়ার নেশা এখনো লালন করেন পুতিন। নিজের এক বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, পুরো একটা সেনাবাহিনী যেখানে বিফল, সেখানে একজন মানুষের কৃতিত্বে জয় পাওয়াটা আমাকে রোমাঞ্চিত করে। রাশিয়ান কমিটেট গোসুদারস্তভেনয় বোজোপাসনস্তির, সংক্ষেপে কেজিবি, ইন্টেলিজেন্স সিকিউরিটি এজেন্সির দায়িত্বে দীর্ঘদিন ছিলেন ভøাদিমির পুতিন। এর পরিচালনায় ছিল রাশিয়ান সেনাবাহিনী। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর এই সংস্থাটি বর্তমানে রাশিয়ান সরকারের অধীনে ফেডারেল সিকিউরিটি বা ফেরন ইন্টেলিজেন্স সংস্থা নামে পরিচালিত হচ্ছে। সেইপেল্ট নামে এক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া পুতিনের সাবেক স্ত্রীর মতে, তিনি পুরো বিষয়টা জেনেছেন বিয়ের এক মুহূর্ত আগে। আর এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে পুতিন বলেছিলেন, কেজিবির কোনো সদস্য যদি নিজের পরিচয় দেন, তবে কেজিবিতে তার স্থান আর থাকে না। নিজের পেশার প্রতি এতটাই নিবেদিত ছিলেন ভøাদিমির পুতিন। ১৯৯০ সালে তিনি মস্কোতে ফিরে আসেন। আর ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে পড়লে প্রচণ্ড মুষড়ে পড়েন। তার মতে, এটি ছিল বিংশ শতকের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়।

রাজনীতির ময়দানে

পুতিনের বিশাল ক্ষমতার আড়ালে একজন ছিলেন অপাঙক্তেয় হয়ে। নাম তার ভ্যালেন্টাইন ইউমাশেভ। প্রথম জীবনে সাংবাদিক মানুষটি পরে ক্রেমলিনের কর্মকর্তা বনে যান। সেখান থেকেই সাবেক প্রেসিডেন্ট ইয়েলতসিনের মেয়ে তাতানার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। কেজিবি কর্মকর্তা পুতিন তখনো সে অর্থে রাজনীতির মঞ্চে আসেননি। এমন সময়েই ইউমাশেভ খোঁজ পান পুতিনের। ইয়েলতসিনের বিদায়ী প্রশাসনিক কর্মকর্তা আনাতোলি চুবাইস উদীয়মান কিছু তরুণকে নিয়ে আলোচনা করছিলেন ইউমাশেভের সঙ্গে। লক্ষ্য ছিল এখান থেকেই ইউমাশেভের পরবর্তী সহকারী কিংবা ম্যানেজার নিয়োগ করা হবে। আর এই অল্প কজনের একজন ছিলেন পুতিন। ইউমাশেভ নিজেও ছিলেন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন মানুষ। পুতিনকে বুঝতে তাই খুব বেশি সময় লাগেনি তার। ইউমাশেভের ভাষায় নতুন আইডিয়া দেওয়া, যুক্তি উপস্থাপন এবং ঘটনা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে পুতিন ছিলেন ভীষণ রকমের দক্ষ। তিনি ছিলে এমন একজন যার হাত ধরে রাশিয়া সোভিয়েত ভাঙনের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে।

১৯৯৭ সাল। সোভিয়েত ভাঙনের পর রাশিয়া এক রকম পতিত পরাশক্তি। রাশিয়া তখন নতুন করে নিজেকে গড়ার চেষ্টা করছে। তখনই সে সময়ের রুশ প্রেসিডেন্ট ইয়েলতসিন খোঁজ পান উচ্চাভিলাষী ব্যক্তি পুতিনের।  তাকে নিয়োগ দেওয়া হয় রাষ্ট্রপতির অফিসের সহকারী চিফ অব স্টাফ হিসেবে। ১৯৯৮ সালে পদোন্নতির পর হয়ে যান রাষ্ট্রপতির দপ্তরের চিফ অব স্টাফ। ১৯৯৯ সালে তাকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন ইয়েলতসিন। পরের বছরই ইয়েলতসিন তাকে আপদকালীন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দিয়ে সরে যান ক্ষমতা থেকে। সোভিয়েত পতনের পর রাশিয়ার উচ্চ বেকারত্বের হার, সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা সবকিছুই সামলাতে হয়েছে তাকে। কিন্তু গোয়েন্দা জীবন থেকে পাওয়া শিক্ষা নিয়ে এগোতে থাকেন পুতিন। নিজের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে ক্রমাগত রাশিয়ান মানুষকে মুগ্ধ করে গিয়েছেন পুতিন। আর এর ফলাফলও হাতেনাতে আসে ২০০৪ সালে। দ্বিতীয় মেয়াদে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ক্ষমতাসীন হন তিনি।

বিতর্কের শুরু

রাশিয়ান সংবিধান অনুযায়ী দুই মেয়াদের পর আর প্রেসিডেন্ট হতে পারতেন না ভøাদিমির পুতিন। কিন্তু তত দিনে তিনি নিজেকে নিয়ে গিয়েছেন অন্য উচ্চতায়। ক্ষমতার নেশাও তাকে পেয়ে গিয়েছে। ২০০৮ সালে তাই নিজের বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেন পুতিন। এ দফায় তিনি অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে। কিন্তু তাই বলে প্রেসিডেন্সির পদটাও সুনিশ্চিত করতে হতো তাকে। সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী মেদভেদেভকে বসালেন প্রেসিডেন্টের আসনে। ২০১২ সালে আবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন পুতিন। মেয়াদ পার করলেন ২০১৬ পর্যন্ত। কিন্তু পরেরবার ২০১৮ নির্বাচনেও যখন নির্বাচিত হলেন, তখনই শুরু হলো বৈশ্বিক নিন্দা। এর মধ্যে ২০১৬ সালে মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ান হ্যাকার এবং পুতিনের সংশ্লিষ্টতার জোর গুঞ্জন শুরু হলে অল্প কিছু নেতৃত্ব বাদে প্রায় সারা বিশ্বেই পুতিন বিবেচিত হতে থাকেন খলনায়ক হিসেবে। এমনকি এই নির্বাচনের পর তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহচর মেদভেদেভ তার সব মন্ত্রিসভা নিয়ে পদত্যাগ করেন। বিস্ময়কর হলেও সত্য, পদত্যাগের পর মেদভেদেভকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন স্টালিন-পরবর্তী রাশিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘসময়ের শাসক।

সংবিধান সংশোধন

চার বছরের মেয়াদ করেছিলেন ছয় বছর। এরপর আবার সংবিধান সংশোধন করা হলো। চাইলেই পুতিন ২০২৪ সালের নির্বাচনেও লড়তে পারবেন। সেই নির্বাচনে দুই মেয়াদে ক্ষমতায় বসলে ক্রেমলিনে তার আয়ু হবে ৩৬ বছর। বয়স তখন ঠেকবে ৮৩ বছরে। সংবিধানের ১৪টি অনুচ্ছেদে সংশোধনী প্রস্তাব এনে এই মহামারীকালেই করেছেন গণভোট। কোনো ধরনের পর্যবেক্ষক না রেখেই সাত দিনে সেই নির্বাচন শেষ করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। অনুমিতভাবেই ফল গিয়েছে পুতিনের পক্ষে। ৭৮ শতাংশ ভোট পেয়ে পুতিন নিশ্চিত করলেন ২০২৪ সালের নির্বাচনেও থাকছেন তিনি। জয় পেলে ২০৩৬ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট নিশ্চিত। অবশ্য শুধু প্রেসিডেন্সিই না, এই ভোটের মাধ্যমে রাশিয়ায় নিষিদ্ধ হয়েছে সমকামিতা, রক্ষিত হয়েছে গির্জার অধিকারও।

বিরোধী দলের নেতা নাভালনি এই নির্বাচনকে বলছেন প্রতারণা এবং তিনি আশা করেন করোনা সংকট কেটে গেলেই লক্ষাধিক মানুষ নিয়ে পুতিনকে ক্ষমতাচ্যুত করবেন। কিন্তু তাতে যেন কিছুই আসে-যায় না প্রেসিডেন্ট পুতিনের। সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, রাশিয়ার মানুষ জাতিগতভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দেশের মানুষ নিজেদের মন থেকেই অনুভব করছিল এর প্রয়োজনীয়তা। প্রেসিডেন্টের দপ্তর ক্রেমলিন একে আখ্যা দিয়েছে বিশাল বিজয় হিসেবে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা আবার সুর মিলিয়েছে বিরোধী দলের সঙ্গে। তাদের অভিযোগ, এই নির্বাচনে মিডিয়ার মাধ্যমে বিরোধীদের মাঠে নামতে না দেওয়া, ইলেকট্রনিক ভোটিং কারচুপিসহ নানা কিছু করেছে পুতিনের প্রশাসন। যদিও এসব অস্বীকার করেছে রাশিয়ার নির্বাচন কমিশন। অবাক করা বিষয় রাশিয়ান নির্বাচন কমিশনের দেখানো তথ্য মতে, রাজধানী মস্কোতে ভোটদানের হার ছিল ৬৫ শতাংশ। বেশ কিছু অঞ্চলে সংখ্যাটি ৯০ শতাংশ পর্যন্ত গিয়েছে। কিন্তু মহামারীর এ সময়ে রাশিয়ান জীবনযাত্রা দেখে এই সংখ্যাকে অস্বাভাবিক বলেই মনে হয়। এ ছাড়া ভোটার টানতে র‌্যাফেল ড্রয়ের মাধ্যমে নগদ অর্থ আর বাড়ি পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়াটা অনেকের কাছেই ঠেকেছে নির্বাচন কারচুপির সহজ সরল লোকদেখানো পন্থা হিসেবে। যদিও এত কিছুর পর এটাই সত্য যে, পুতিনই ছিলেন এবং পুতিনই থাকবেন। পুতিনের দাবি, রাশিয়ার আগের সংবিধান ছিল একটি ধীরগতির।  যে রাষ্ট্র নিজেদের সামগ্রিক ভাবনা কেবল বুর্জোয়াদের সঙ্গে এক করে ফেলে সে দেশের ভাগ্য খারাপ হবে, এটা তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। পুতিনের এই ব্যাখ্যা ঠিক কতটা সত্য, তা বলা যায় না। এ কথা ঠিক, সোভিয়েতের ভাঙনের পর কেউ যদি সত্যিকার অর্থেই রাশিয়াকে ধরে রাখার ক্ষমতা রেখে থাকেন, তবে সেটা ছিলেন ভøাদিমির পুতিনই। কিন্তু প্রেম ধীরে মুছে যায়, নক্ষত্রেরও একদিন মরে যেতে হয়। পুতিন আর ক্ষমতার সেই প্রেম কবে মুছবে, সত্যিই কোনো নক্ষত্র কবে ক্ষয়ে যাবে, তা কেউ জানে না। তার আগ পর্যন্ত রাশিয়ায় পুতিনের ওপর কেউ নেই।