টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে প্রায় আড়াইশ বছরের পুরোনো নৌকার হাট জমে উঠতে শুরু করেছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নৌকার কদরও বাড়ছে। বর্ষাকালে উপজেলার নিম্নাঞ্চলের মানুষের চলাচলের একমাত্র বাহন হল নৌকা। বর্ষা মৌসুমে উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের বরাটি বাজারে প্রতি সোমবার কয়েক মাস ধরে চলে এই নৌকার হাট।
গত বছরের তুলনায় এবার নৌকার দাম বেশি বলছেন হাটে আসা ক্রেতারা। বিক্রেতারা বলছেন করোনাভাইরাসের প্রভাবে এবার হাট জমে উঠতে সময় লাগছে। যে কারণে কম দামে নৌকা বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নৌকার চাহিদাও বাড়তে থাকে বলে হাটে আসা বিক্রেতারা জানান।
মির্জাপুর উপজেলার দক্ষিণে লৌহজং আর উত্তরে বংশাই নদী দ্বারা বেষ্টিত। তাছাড়া পার্শ্ববর্তী বাসাইল উপজেলা থেকে উপজেলার উত্তরে যুক্ত হয়েছে ঝিনাই নদী। বর্ষার শুরুতেই নদীগুলোর পানি বৃদ্ধির ফলে এলাকার খাল-বিল-ডোবা-নালা প্লাবিত হয়ে অনেক রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার মানুষের চলাচলের একমাত্র বাহন এখন নৌকা।
সোমাবার (১৩ জুলাই) সরেজমিনে বরাটির নৌকার হাটে গিয়ে দেখা গেছে, বিক্রেতারা নৌকার পসরা সাজিয়ে বসে আছেন।
উপজেলার ১টি পৌরসভা এবং ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে এই হাটে ক্রেতা-বিক্রেতারা আসেন। ১০/১২ হাত লম্বা শুধু কাঠ দিয়ে তৈরি একটি নৌকা তিন থেকে চার হাজার টাকা এবং তাতে স্টিলের পাত লাগালে তা দশ থেকে বার হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলার আগধল্যা গ্রামের আনোয়ার বলেন, বাড়ির কাছে রাস্তা আছে। বাড়ি থেকে বের হলেই পানি। তাই চলাচলের জন্য নৌকা কিনলাম। তবে গত বছরের তুলনায় দাম একটু বেশি।
উপজেলার বরাটি গ্রামের শাজাহান বলেন, বাড়ির চারপাশে পানি। তাই নৌকা কিনতে এসেছি।
উপজেলা সদরের আন্ধরা গ্রামের কাঠমিস্ত্রী বাবু লাল সূত্রধর বলেন, বর্ষা মাসে কাম নাই। তাই নাও বানিয়া হাটে বিক্রি করতাছি। ১০/১২ হাত লম্বা একটি নৌকা দশ হাজার টাকায় বিক্রি করছেন বলে তিনি জানান।
বরাটি গ্রামের বাসিন্দা বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের মির্জাপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রমথেস গোষ্মামী শংকর বলেন, প্রায় আড়াইশ বছরের পুরোনো এই হাটটি বর্ষাকাল আসতেই ধীরে ধীরে জমে উঠতে শুরু করেছে।
বরাটি বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুল ওয়াহাব মল্লিক বলেন, মির্জাপুর উপজেলার ঐতিহ্য আড়াইশ বছরের পুরোনো এই নৌকার হাট। বর্ষার শুরু থেকে হাটবার ছাড়াও প্রতিদিনই নৌকা বিক্রি চলে।