ভারতের সঙ্গে আমাদের কোনো পার্থক্য খুঁজে পাইনি: তপু

বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের যৌথ বাছাইয়ে এখন পর্যন্ত চার ম্যাচের কোনোটাতেই জয় পায়নি বাংলাদেশ। অর্জন সাকল্যে এক পয়েন্ট। তবে সেই এক পয়েন্ট এসেছিল ভারতের বিপক্ষে, প্রতিপক্ষের মাঠে খেলে। আফগানিস্তানের বিপক্ষেও অ্যাওয়ে ম্যাচে দারুণ লড়াই করেছিল জামাল ভূঁইয়া, তপু বর্মনরা। সেই ম্যাচগুলো সামনের হোম ম্যাচের জন্য বড় আত্মবিশ্বাস জুগাবে বলে মনে করছেন ডিফেন্ডার তপু বর্মন। এমনকি এই তারকা শক্তির দিক থেকে ভারতের সঙ্গে নিজেদের পার্থক্যও দেখেন না।

করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের খেলা স্থগিত ছিল। তবে অক্টোবরে ফের শুরু হবে বাছাই পর্ব। অক্টোবর-নভেম্বরে নিজেদের বাকি থাকা ৪ ম্যাচের তিনটিই বাংলাদেশ খেলবে ঘরের মাঠে।

যে ম্যাচগুলো নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী তপু, ‘আমরা ৮ই অক্টোবর আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম হোম ম্যাচটি খেলব। আমরা তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে প্রশিক্ষণের বাইরে আছি। আশা করছি আগস্ট মাসে আমাদের ক্যাম্প শুরু হবে এবং আমরা তৈরি হবার জন্য যথেষ্ট সময় পাব। হোম ম্যাচ হওয়ার কারণে আমরা কিছু অতিরিক্ত সুবিধা পাব।’

প্রথম পর্বে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচটি হয়েছিল তাজিকিস্তানে। বাংলাদেশ ম্যাচটা হারে ১-০ গোলে। তপু বলছেন, ‘আফগানিস্তানের সাথে আমরা ভালো খেলে ও শেষ মুহূর্তে হেরে গিয়েছিলাম তাজিকিস্তানে। কিন্তু দলগতভাবে তুলনা করতে হলে আমরা তাদের চেয়ে এগিয়ে থাকব। আমরা দেশের বাইরের ম্যাচ গুলোতে ভালো খেলেছি তাই আমরা আশা করছি আমরা হোম ম্যাচেও ভালো করব। আমি একটি পজিটিভ ফলাফল আশা করছি।’

গত বছর ১৫ অক্টোবর সল্ট লেকে ভারতের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করা ম্যাচটা বাংলাদেশের ফুটবলে স্মরণীয় হয়ে থাকবে নিশ্চিতভাবেই। স্বাগতিক দর্শকদের স্তব্ধ করে সাদ উদ্দিনের গোলে প্রথমার্ধেই লিড নিয়েছিল বাংলাদেশ। জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ার অপেক্ষাতেই ছিল জেমি ডের দল। তবে ৮৮ মিনিটে সেই স্বপ্ন ভাঙে আদিল খানের গোলে।

তপু বলছেন, ‘আমরা ভারতের সাথে ওদের হোম ম্যাচে জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও দুর্ভাগ্যবশত হেরে গিয়েছিলাম। সেখানে তাদের বিপক্ষে ভালো খেলাটা এবার পজিটিভ ভূমিকা রাখবে। আমরা ওদের সম্পর্কে জানি, ওদের বিপক্ষে খেলেছি।’

বসুন্ধরা কিংসের এই ডিফেন্ডারের দাবি, ‘আমি তাদের সাথে আমাদের কোনো পার্থক্য খুঁজে পাইনি। আমাদের উভয়ই সমান অবস্থানে রয়েছি। এর পাশাপাশি আমরা হোম ম্যাচের অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছি।’

১২ নভেম্বর ভারত এবং ১৭ নভেম্বর নিজেদের শেষ ম্যাচে ওমানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এর আগে ১৩ অক্টোবর একমাত্র অ্যাওয়ে ম্যাচটি কাতারের বিপক্ষে।

ঘরের মাঠে শক্তিশালী কাতারের বিপক্ষেও দারুণ লড়াই করেছিল বাংলাদেশ। যদিও শেষ পর্যন্ত ০-২ গোলে হারতে হয়। আর ওমানের মাঠে বাংলাদেশ হেরেছিল ৪-১ গোলে।

তরে ঘরের মাঠে ওমানের সাথেও লড়াই চান তপু, ‘আমরা জানি যে ওমান একটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। আমরা তাদের মাটিতে ১-৪ গোলে পরাজিত হই। আমি মনে করি সেটিই ছিল কোলিফায়ার্সের সব থেকে কঠিন ম্যাচ আমাদের জন্য। আমরা আমাদের দেশের বাইরে খেলেছি আর এবার ওমান ওদের দেশের বাইরে খেলতে আসছে। ওমানের বিপক্ষে আমাদের দলের সকলেই ভালো খেলার চেষ্টা করব। আমি মনে করি তাদের বিপক্ষে দলগতভাবে ভালো খেলতে পারলে আমরা পজিটিভ ফলাফল পাব।’

বাংলাদেশ আসলে ঘরের মাঠের এই ম্যাচ তিনটি থেকে অন্তত একটিতে জয় চায়। কোচ জেমি ডে ও তার শিষ্যদের লক্ষ্য আসলে এটাই।