প্রতি কর্মদিবসেই আপিল বিভাগে ভার্চুয়াল শুনানি

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শারীরিক উপস্থিতি ছাড়া ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে মামলার শুনানির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। গতকাল মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার মো. বদরুল আলম ভূঞা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে প্রধান বিচারপতির বরাত দিয়ে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রবিবার থেকে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর সোয়া ১টা পর্যন্ত আপিল বিভাগে ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে বিচারকার্য পরিচালিত হবে।

পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত সোমবার দেশের বিচারিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে মামলার শুনানি হয়। ওই দিন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন আপিল বিভাগের অপর বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার, বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিক ও বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান। এছাড়া মামলার শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এএম আমিন উদ্দিনসহ মামলা সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। প্রধান বিচারপতি এ সময় ভার্চুয়াল বিচারব্যবস্থাকে এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেন। সপ্তাহে প্রতি কর্মদিবসে আপিল বিভাগে ভার্চুয়াল শুনানির বিষয়ে অভিমত প্রকাশ করেন তিনি।

গেল মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটি এবং পরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রেক্ষিতে প্রায় চার মাস বন্ধ ছিল আপিল বিভাগের  নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম। তবে এই সময়ে নির্দিষ্ট দিনে চেম্বার আদালতে সীমিতসংখ্যক মামলায় ভার্চুয়াল শুনানি শেষে আদেশ হয়েছে। গত ১২ জুলাই আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রধান বিচারপতি দেশব্যাপী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধকল্পে এবং শারীরিক উপস্থিতি ব্যতিরেকে ‘আদালত কর্র্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ, ২০২০’ এবং অত্র কোর্ট কর্র্তৃক প্রণীত প্র্যাকটিস ডাইরেকশন অনুসরণ তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে শুধু ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারকার্য পরিচালনার বিষয়ে  অনুমোদন দিয়েছেন।