ওষুধ এবং চিকিৎসা ও প্রসাধনসামগ্রী বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে লাজ ফার্মা বরাবরই যে ঘোষণা দেয় তা হলো ‘গুণগত মানের সঙ্গে কোনো আপস নয়’। সেই লাজ ফার্মায় ৭৬ প্রকার অনুমোদনবিহীন ও ভেজাল ওষুধ বিক্রির খবরে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন রাজধানীবাসী। ফেইসবুকসহ নানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির বহু গ্রাহক। ১৯৭৫ সালে ব্যবসায়ী লুৎফর রহমানের প্রতিষ্ঠিত এই ওষুধের দোকানটি দীর্ঘদিন ধরে তাদের সুনাম ধরে রাখে। কিন্তু সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক পাওয়া যাচ্ছে ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির অভিযোগ। দফায় দফায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের জরিমানাও করেছে।
গত সোমবার প্রতিষ্ঠানটির রাজধানীর কাকরাইল শাখায় অভিযান চালিয়ে অনুমোদনহীন ও ভেজাল ওষুধ রাখার দায়ে ২৯ লাখ টাকা জরিমানা করে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে ৭৬ ধরনের অনুমোদনহীন ও ভেজাল ওষুধ জব্দ করা হয়। প্রায় ৫ ঘণ্টা ধরে অভিযান চালানো হয় লাজ ফার্মার ওই শাখায়। র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ বসু জানান, বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই অভিযান চলে। সেখানে ৭৬ ধরনের আমদানি নিষিদ্ধ ও অননুমোদিত ওষুধ পাওয়া যায়। এছাড়া অনেক মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধও পাওয়া যায়। আনুমানিক ৫০ লাখ টাকা দামের অননুমোদিত ও আমদানি নিষিদ্ধ ওষুধ-ইনজেকশন মজুদ করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানের কাকরাইল শাখার ম্যানেজার রতন কুমার মণ্ডলসহ পাঁচজনকে পাঁচ লাখ টাকা করে ২৫ লাখ টাকা ও দুজনকে দুই লাখ টাকা করে চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের মেয়াদ মুছে টেম্পারিং করে পুনরায় বিক্রিরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই অনিয়মের অভিযোগে গত ৯ জুলাই লাজ ফার্মার উত্তরার একটি শাখাকেও এক লাখ টাকা জরিমানা করেছিল ভ্রাম্যমাণ আদালত। এর আগে গত ২১ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির শান্তিনগর শাখাকে জরিমানা করে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
শাহাদাত হোসেন নামে শান্তিনগরের এক ব্যবসায়ী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার পরিবারের যেকোনো ওষুধ আমি লাজ ফার্মা থেকে কিনি। যখন তাদের শুধু একটি শাখা ছিল তখন কলাবাগানে গিয়ে ওষুধ কিনতাম। এখন অনেক শাখা হয়েছে। শাখা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি দেখি ভেজাল ওষুধের কারবারও শুরু করেছে। আমরা যাব কোথায়?’
প্রায় একই ধরনের বক্তব্য দেন কলাবাগান লেক সার্কাসের বাসিন্দা ইব্রাহিম খান। তিনি বলেন, ‘কেউ আর ভালো থাকল না। স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আমরা যাব কোথায়?’