সদ্য সমাপ্ত ২০১৯-২০ অর্থবছরে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (আরএডিপি) বরাদ্দের মাত্র ৮০ দশমিক ১৮ শতাংশ ব্যয় করতে পেরেছে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর সবচেয়ে কম রেকর্ড। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকের পর পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানও ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। এ সময় বৈঠকে যুক্ত ছিলেন আইএমইডির সচিব আবুল মনসুর মো. ফয়েজ উল্লাহ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
এ বিষয়ে মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন কাজ স্থগিত ছিল। এজন্য এডিপি বাস্তবায়নে সন্তোষজনক অবস্থা অর্জন করা যায়নি। এর আগের অর্থবছর ২০১৮-১৯-এ আরএডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৯৪.৬৬ শতাংশ। করোনভাইরাস মহামারীতে ব্যাহত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর হিসাবে গত অর্থবছরে আরএডিপি বাস্তবায়ন ১৪.৪৮ শতাংশ কমানো হয়েছিল।
আরএডিপি বাস্তবায়ন রিপোর্ট বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাস্তবায়ন হার আগে ১৯৯২-৯৩ অর্থবছরে ছিল সর্বনিম্ন, ওই বছর বাস্তবায়নের হার ছিল ৮০ দশমিক ৬৬ শতাংশ ছিল। তবে ২০১৯-২০ অর্থবছরে সংশোধিত এডিপি বাস্তবায়ন এ রেকর্ডটি ভেঙে দিয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের সূত্র জানায়, গত বছর ২ লাখ ১৫ হাজার ১১৪ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন ব্যয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তা বাস্তবায়নের হারের গতি কমে যাওয়ার কারণে পরে কাটছাঁট করা হয়। গত অর্থবছরে ২ লাখ ১ হাজার ১৯৯ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য ছিল।
গত বছর মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো ১ লাখ ৬১ হাজার ৩২১ কোটি টাকা ব্যয় করতে পারে। এ হিসাবে ব্যয় কম হয়েছে ৩৯ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকা।