বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্ম ও ইউটিউবে পরিবেশিত দেশি-বিদেশি ওয়েব সিরিজগুলোতে থাকা দেশীয় সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধবিরোধী অনৈতিক, আপত্তিকর, আইনবহির্ভূত কনটেন্ট ও অশ্লীল দৃশ্য এক সপ্তাহের মধ্যে সরিয়ে ফেলতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি অনলাইন প্লাটফর্মগুলো থেকে কীভাবে সরকারি রাজস্ব সংগ্রহ করা হয় তা বিটিআরসিকে (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা) এক মাসের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে। জনস্বার্থে এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
এর আগে বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফরম থেকে বিতর্কিত, আপত্তিকর ও অশ্লীল দৃশ্য সরানোর ব্যবস্থা নিতে গত ১৪ জুন উচ্চ আদালতের আইনজীবী মো. তানভীর আহমেদ ই-মেইলে তথ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং সিআইডির সাইবার পুলিশ ব্যুরোর অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বরাবর আইনি নোটিস পাঠান। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন তিনি। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, উপযুক্ত পর্যবেক্ষণ কিংবা সরকারের সঠিক তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ইউটিউবে বা অনলাইন প্লাটফর্মে দেশীয় সিনেমা এবং ওয়েব সিরিজগুলোতে আপত্তিকর দৃশ্য বেড়েই চলেছে। এগুলো দেশীয় সংস্কৃতির বিরোধী, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন অনুসারে ফৌজদারি অপরাধ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের পরিপন্থী।
একই সঙ্গে আমাদের দেশের সংস্কৃতি এবং সামাজিক নিয়ম শৃঙ্খলার জন্যও হুমকিস্বরূপ। এছাড়া এসব নিয়ে কোনো নীতিমালা না থাকায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ভিডিও করফারেন্সে শুনানিতে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়। ব্যারিস্টার তানভীর আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওটিটি প্লাটফর্ম ওয়েব সিরিজে থাকা অশ্লীল, আইন বহির্ভূত ভিডিও কনটেন্ট এক সপ্তাহের মধ্যে সরিয়ে ফেলতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। বিটিআরসি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ বিষয়ে নোটিস দেবে। এছাড়া বিটিআরসি কীভাবে এ-সংক্রান্ত সরকারি রাজস্ব সংগ্রহ করে তা জানাতে বলা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বিটিআরসি বাংলাদেশে দেশি-বিদেশি ওয়েব প্লাটফরমের নিয়ন্ত্রক। তারা সরাসরি এগুলো সরাতে পারবে না। কিন্তু তাদের রিপোর্ট করতে পারবে যে, না সরালে ওয়েবসাইট ব্লক করে দেওয়া হবে।’