মহামারী করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়েছে মোবাইল ফোন অপারেটরদের ব্যবসায়ও। করোনায় মোবাইল সংযোগ কমে যাওয়ার পাশাপাশি ফোনে কথা বলাও কমিয়ে দিয়েছেন গ্রাহকরা। এতে করে দেশের শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের আয় কমে গেছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) কোম্পানিটির রিভিনিউ কমেছে ৮ শতাংশের বেশি। এতে করে ওই প্রান্তিকে গ্রামীণফোনের নিট মুনাফা কমেছে প্রায় ২৪ শতাংশ।
আয় কমে যাওয়ায় করোনার প্রভাবকে দায়ী করে গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান বলেন, ‘চার মাস ধরে একটি নজিরবিহীন বৈশি^ক মহামারী আমাদের কাজের ধরনের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। আমাদের কাজের ধরন থেকে শুরু করে গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হয়েছে। কভিড-১৯-এর সঙ্গে বৈরী আবহাওয়া ও রেগুলেটরি বাস্তবতার কারণে গত বছরের তুলনায় ২০২০ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে রাজস্ব অর্জনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।’
চলতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে গ্রামীণফোনের রেভিনিউ হয়েছে ৩ হাজার ৩০৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩ হাজার ৬০৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা। চলতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে ট্রাফিক চার্জ, কর্মীদের বেতন, পরিচালন ও মেরামত, রেভিনিউ শেয়ারিং, তরঙ্গ চার্জ, অবচয়সহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৪০৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এ সময়ে রেভিনিউ কমলেও পরিচালন ব্যয় অপরিবর্তিত রয়েছে। এই প্রান্তিকে গ্রামীণফোনের পরিচালন মুনাফা হয় ১ হাজার ৪০৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ কম।
চলতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে গ্রামীণফোনের সুদবাবদ ব্যয় বেড়েছে। এ সময়ে সুদবাবদ খরচ হয়েছে ৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা। কর পরিশোধের পর কোম্পানির নিট মুনাফা হয়েছে ৭২৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৯৫৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এ হিসেবে আগের বছরের চেয়ে চলতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে গ্রামীণফোনের নিট মুনাফা কমেছে ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ।
এদিকে চলতি বছরের অর্ধবার্ষিকীতে গ্রামীণফোনের নিট মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ৭৯৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কম। প্রথম প্রান্তিকে মুনাফায় প্রবৃদ্ধি থাকায় দ্বিতীয় প্রান্তিকের তেমন প্রভাব কোম্পানিতে পড়েনি। চলতি অর্ধবার্ষিকীতে কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৩ টাকা ৩০ পয়সা। এই আয়ের ওপর নির্ভর করে গতকাল গ্রামীণফোন তার শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৩০ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশের ঘোষণা দিয়েছে।
অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে গতকাল আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণফোনের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) ইয়েন্স বেকার বলেন, ‘সাধারণ ছুটি থাকায় দেশের অর্থনীতির শ্লথগতির কারণে ২০২০ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে গ্রামীণফোন চ্যালেঞ্জিং সময় পার করেছে। তবে মে থেকে অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন শুরু হয়েছে। ইন্টারনেট সেবায় প্রবৃদ্ধি ঠিক থাকলেও দ্বিতীয় প্রান্তিকে রাজস্ব অর্জন ও নেটওয়ার্কে গ্রাহক সংখ্যায় নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখেছি। তবে দেশের প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে আমাদের বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে, একই সঙ্গে কভিড-১৯ মোকাবিলায় সরকারকে আমাদের প্রযুক্তি সহযোগিতাও অব্যাহত থাকবে।’
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত গ্রামীণফোন প্রায় ১৫ লাখ গ্রাহক হারিয়েছে। গতকাল গ্রামীণফোনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তাদের মোট গ্রাহক সংখ্যা ৭ কোটি ৪৫ লাখ, যার ৫৪ দশমিক ৮ শতাংশ বা ৪ কোটি ৮ লাখ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে গ্রামীণফোন নেটওয়ার্ক উন্নয়নে ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এ সময়ে ১৩২টি নতুন ফোরজি সাইট স্থাপন করা হয়েছে। জুন শেষে মোট নেটওয়ার্ক সাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৫৫৭। দ্বিতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত গ্রামীণফোন সরকারের কোষাগারে কর, ডিউটি, ফি ও স্পেকটার্ম চার্জ বাবদ মোট রাজস্বের ৬৭ শতাংশ বা ৪ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা জমা দিয়েছে।