পাবনায় পরীক্ষা ছাড়াই করোনার রিপোর্ট, ক্লিনিক সিলগালা

অনুমোদন ছাড়া করোনাভাইরাস পরীক্ষা ও ভুয়া প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগে পাবনায় রূপপুর মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে একটি ক্লিনিক সিলগালা করে দিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশীতে অবস্থিত ক্লিনিকটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সাব-ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকসহ পাঁচ শতাধিক ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে অর্থের বিনিময়ে ভুয়া প্রতিবেদন তৈরি করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর প্রমাণ মেলায় ক্লিনিকটি বন্ধের নির্দেশের পরও অবৈধভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল প্রতিষ্ঠানটি। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আসমা খানের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে পাবনা সিভিল সার্জন অফিস।

ডা. আসমা খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে রূপপুর মেডিকেয়ার ক্লিনিকের মালিক আবদুল ওহাব রানা ও নাটোরের বড়াইগ্রামের সুজন আহমেদ বেশ কিছুদিন ধরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে একটি পরিত্যক্ত ইটভাটার মাঠে তাঁবু বসিয়ে করোনাভাইরাসের পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করত। প্রতিটি রিপোর্টের জন্য ৫-৬ হাজার টাকা নিয়ে তা পাঠানো হতো ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এ ব্যাপারে তারা স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমোদন তো দূরের কথা, অবহিতও করেনি। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ক্লিনিকটির অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’

পাবনার সিভিল সার্জন ডা. মেহেদী ইকবাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রূপপুর মেডিকেয়ার ক্লিনিকের মালিক আবদুল ওহাব রানার নেতৃত্বে চক্রটি করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা না করেই ইচ্ছেমতো “নেগেটিভ” ও “পজিটিভ” ফল বসিয়ে দিত। এর আগে গত ৭ জুলাই রাতে জালিয়াতির অভিযোগে রূপপুর মেডিকেয়ার ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে পুলিশ মালিক আবদুল ওহাব রানাকে আটক করে।’

ঈশ্বরদী থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান, করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহে প্রতারণার অভিযোগে রূপপুর মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক আবদুল ওহাব রানাসহ সংশ্লিষ্ট তিনজনসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করা হয়। ওই মামলায় ক্লিনিক মালিক রানাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত ৮ জুলাই ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মো. আবদুল ওহাব রানাসহ অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। ওই মামলায় বর্তমানে রানা পাবনা জেলহাজতে রয়েছেন। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. আবু সাইদ ও নাটোরের বড়াইগ্রামের নাটাবাড়িয়া গ্রামের সুজন আহমেদ। তাদের পুলিশ গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।