বিকন ও সেন্ট্রাল ফার্মা

অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধি, তদন্তে এসইসির কমিটি

মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই ওষুধ খাতের বিকন ও সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার দর অস্বাভাবিক হারে বাড়ার ঘটনা তদন্তে দুই সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। গতকাল এই তদন্ত কমিটি গঠন করে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এসইসি।

এসইসির সহকারী পরিচালক শামসুর রহমানের নেতৃত্বে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ওই দুই কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধির কারণ ও এর নেপথ্যে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে। বেশির ভাগ সময়ই এই দুই কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় থাকে।

পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, গত এক বছরে বিকন ফার্মার শেয়ার দর প্রায় চার গুণ বেড়েছে। এ সময়ে শেয়ারটির দর ২০ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ৭৪ টাকায় উন্নীত হয়। স্বল্প আয়ের এ কোম্পানিটি কখনোই ৬ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ দিতে পারেনি। গত পাঁচ বছরে এই কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় সর্বোচ্চ ছিল ৫৫ পয়সা। চলতি হিসাববছরে সামান্য বেড়ে তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ইপিএস হয়েছে ৫৫ পয়সা। স্বল্প আয়ের এই কোম্পানির শেয়ার নিয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে কারসাজি হচ্ছে বলে এসইসি সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে সেন্ট্রাল ফার্মার ড্রাগ লাইসেন্স গত সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে স্থগিত করে রেখেছে ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর থেকে কোম্পানিটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কিন্তু উৎপাদন বন্ধ থাকলেও লোকসানি সেন্ট্রাল ফার্মার শেয়ার নিয়ে কারসাজি অব্যাহত রয়েছে। গত বছরের নভেম্বর থেকে এই কোম্পানির শেয়ার নিয়ে কারসাজি চলছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বিকন ফার্মার শেয়ারের জড়িত কারসাজিকারকরাই সেন্ট্রাল ফার্মার শেয়ারের অস্বাভাবিক লেনদেনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কারসাজি ও অস্বাভাবিক লেনদেনের মাধ্যমে গত নভেম্বর থেকে এই শেয়ারের দর ৭ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৬ টাকা ৯০ পয়সায় উন্নীত করা হয়।