ভারতে শনাক্ত ১০ লাখ ছাড়াল যুক্তরাষ্ট্রে এক দিনে রেকর্ড

করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যায় বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। গতকাল শুক্রবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিগত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৩৪ হাজার ৯৫৬ নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে ভারতে এ পর্যন্ত শনাক্ত দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৩ হাজার ৮৩২ জনে।

কেবল শনাক্তে নয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ভারতে করোনাভাইরাসে মৃত্যুরও রেকর্ড হয়েছে। এই সময়ে আরও ৬৮৭ জনের মৃত্যুতে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ৬০২ জনে।

জানুয়ারিতে কেরালায় প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ভারতে রোগীর সংখ্যা ১০ লাখে পৌঁছাতে সময় লাগল সাড়ে ৫ মাস। এর মধ্যে শেষ ১ লাখ শনাক্ত হয়েছে মাত্র ৩ দিনে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মার্চে ভারতজুড়ে কঠোর লকডাউন দেওয়ার কারণে সংক্রমণের হার ছিল  অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। পরের দিকে লকডাউন শিথিলের পর পাল্লা দিয়ে বেড়েছে আক্রান্ত-মৃত্যুর সংখ্যা। ভারতের মধ্যে কেবল মহারাষ্ট্রেই শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ৮৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে, মৃত্যু হয়েছে ১১ হাজার ১৯৪ জনের। পশ্চিমবঙ্গেও মৃত্যু হাজার ছাড়িয়েছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত এ রাজ্যে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ১১৭ জনে।

সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলেও ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠার হার কর্মকর্তাদের স্বস্তি দিচ্ছে। দেশটিতে শুক্রবার পর্যন্ত ৬ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে দৈনিক শনাক্তে রেকর্ড : লকডাউন শিথিল করার পর যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। সংক্রমণ ও মৃত্যুতে তাদের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে ব্রাজিল। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড ৭৭ হাজার ২১৭ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। ফ্লোরিডা, সাউথ ক্যারোলিনা ও টেক্সাসে সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি বাড়ছে। গত এক দিনে মারা গেছেন ৯৬৯ জন, যা গত ১০ জুনের পর সর্বোচ্চ।

করোনাভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৫৮ জন মারা গেছেন। যেভাবে দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ বাড়ছে তাতে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়বে। নতুন করে রোগী বাড়তে থাকায় বিভিন্ন রাজ্যের হাসপাতাল থেকে সতর্ক করা হয়েছে।

বর্তমানে টেক্সাস ও অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি। সেখানে মর্গগুলোতে মৃতদেহ রাখার আর জায়গা নেই। গত এপ্রিলে দেশটি সবচেয়ে বেশি মৃত্যু দেখেছে। ওই সময় প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। মে মাসে মৃত্যু কিছুটা কমে এক হাজারের কাছাকাছি এবং জুন মাসে তা এক হাজারের নিচে নেমে এসেছিল। কিন্তু জুলাই মাসে মৃত্যুর সংখ্যা আবার বাড়তে শুরু করেছে।

ভাইরাস প্রতিরোধে দূরত্ব বজায়ে কড়াকড়ি আরোপ, বাইরে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, স্কুল বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে দেশটির জনগণ এখনো দ্বিধাবিভক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউচি এই দ্বিধা দূরে ঠেলে রোগ নিয়ন্ত্রণে একজোট হয়ে কাজ করার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে ঠিক-ভুলের বিচার করা কঠিন। বরং যেটা হয়েছে তা মেনে নিয়ে নতুন করে শুরু করতে হবে। আসুন এসব অর্থহীন কথা বন্ধ করি এবং কীভাবে এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যায় তার ব্যবস্থা করি।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এবং মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের পরেই আছে লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। সেখানে গত মার্চে প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ার পর এখন পর্যন্ত মোট শনাক্ত ২০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। মারা গেছেন ৭৪ হাজারের বেশি মানুষ।