করোনা পরিস্থিতিতে সারা দেশের আবাসিক গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিলে বিলম্ব মাশুল মওকুফের মেয়াদ ৩১ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এর আগে ফেব্রুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত বিদ্যুতের আবাসিক গ্রাহকদের বিল পরিশোধে ৫ শতাংশ বিলম্ব ফি মওকুফ করা হয়। সময় বাড়ানোর ফলে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত ৫ শতাংশ বিলম্ব মাশুল ছাড়াই বিল পরিশোধে গ্রাহকদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অতিরিক্ত বিলের ভোগান্তির কারণে অনেকেই জুনের মধ্যে তাদের সব বিল পরিশোধ করতে পারেননি। ফলে গ্রাহকদের জন্য ৩১ জুলাই পর্যন্ত বিলম্ব মাশুল মওকুফের জন্য বিইআরসিকে জানায় বিদ্যুৎ বিভাগ। সে সময় কমিশন জানায়, বিতরণ কোম্পানিগুলো আবেদন করলেই তারা মওকুফ করার আদেশ দেবেন। এরপর বিতরণ কোম্পানিগুলো একে একে আবেদন করে। এসব আবেদনের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার আদেশ দেওয়া হয়।
এদিকে সরকার বিলম্ব মাশুল মওকুফের ঘোষণা দিলেও গত চার মাস ধরে অস্বাভাবিক পরিমাণে বেশি বিল আসছে বলে অনেক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন। বিতরণ সংস্থাগুলো এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে ভুল সংশোধনের উদ্যোগও নিয়েছে। লকডাউন ও মহামারীর মধ্যে মিটার না দেখে অনুমাননির্ভর বিল তৈরি করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তখন জানিয়েছিল বিতরণ সংস্থাগুলো।
গত মে মাস থেকে ঢাকার দুই বিতরণ সংস্থা ডেসকো ও ডিপিডিসি মিটার দেখে বিল তৈরি করছে বলে দাবি করলেও এই সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত বিল হাতে পাওয়ার দাবি করছেন অনেক গ্রাহক। তবে এসব দাপ্তরিক ভুলগুলোকে রুটিন কাজের অংশ হিসেবে সংশোধন করে দেওয়া হবে বলে দুই সংস্থার শীর্ষ ব্যক্তিরা আশ^স্ত করেছেন।
গত ৫ জুলাই বিদ্যুতের সব বিতরণ সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বিদ্যুৎ সচিব সুলতান আহমেদ। সেখানে সাংবাদিকরা জুন মাসেও বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল আসার অভিযোগের কথা জানালে সচিব বলেন, এসব ভুলের কারণে কোনো গ্রাহককে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হবে না। প্রয়োজনে বিলম্ব মাশুল মওকুফের সময় বাড়ানো যায় কি না সরকার সেটাও চিন্তা করছে। ফলে কারও কোনো অসুবিধা হবে না। এই সময়ের মধ্যে ভুল সংশোধন করা যাবে।