নব্য জেএমবির নারী শাখার সংগঠক ভারতীয় গ্রেপ্তার

নিষিদ্ধ ঘোষিত নব্য জেএমবির (জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ) নারী শাখার সংগঠক এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্র্যান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) একটি টিম। তার নাম আয়েশা জান্নাত মোহনা ওরফে জান্নাতুত তাসনিম ওরফে প্রজ্ঞা দেবনাথ (২৫)। গ্রেপ্তারের পর গতকাল শুক্রবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের মাধ্যমে চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে সিটিটিসি।

সিটিটিসির কাউন্টার টেররিজম (সিটি) বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সাইফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে নব্য জেএমবির নারী শাখার অন্যতম এই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত নারী সদস্য ভারতীয় নাগরিক। সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বী এই নারী অনলাইনে জেএমবির কর্মকাণ্ডে আকৃষ্ট হয়ে ধর্মান্তরিত হন। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে একটি ভারতীয় পাসপোর্ট, বাংলাদেশের জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট, বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র ও দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি কতজনকে রিক্রুট করেছেন ও কোন কোন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করতেন সেসব বিষয়ে জানার জন্য চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

সিটিটিসির আরেক কর্মকর্তা জানান, আয়েশা জান্নাত মোহনা বিভিন্ন ছদ্মনামে অনলাইনে সক্রিয় ছিলেন। তিনি মূলত ভারতীয় নাগরিক। তার বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার ধনিয়াখালী থানার পশ্চিম কেশবপুর গ্রামে। ২০০৯ সালে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় তিনি সনাতন ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হন। তারপর থেকে তিনি ধর্মীয় বিষয়ে পড়াশোনায় আগ্রহী হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে অনলাইনে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নব্য জেএমবির নারী শাখার সদস্যদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় তিনি বাংলাদেশের নব্য জেএমবির নারী শাখার প্রধান আসমানি খাতুন ওরফে আসমা ওরফে বন্দি জীবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন। তার নির্দেশনায় সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন শুরু করেন।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ২০১৬ সাল থেকে ভারত থেকে নিয়মিত বিরতিতে বাংলাদেশে যাতায়াত করতেন ওই নারী। বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত সংগঠনের সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে সংগঠনের কাজে ব্যয় করতেন। সম্প্রতি বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ার জন্য একটি ভুয়া জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করেন। পরবর্তীকালে সেটা ব্যবহার করে ভুয়া বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেন। ইতিমধ্যে তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ওমান প্রবাসী আমির হোসেন সাদ্দামকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিয়ে করেন। সর্বশেষ স্বামী আমির হোসেন সাদ্দামের পরামর্শে গত ১৯ অক্টোবর বাংলাদেশে স্থায়ী বসবাসের জন্য চলে আসেন। এসময় তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। ওইসব এলাকার বিভিন্ন মাদ্রাসায় পরিচয় গোপন করে শিক্ষকতা করতেন। তিনি সংগঠনের হয়ে দাওয়াতি কার্যক্রম এবং সদস্য সংগ্রহের কাজ করছিলেন। তবে নারী শাখার প্রধান আসমানি গ্রেপ্তার হওয়ার পর পরই তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। আত্মগোপনে থেকে অনলাইনে বিভিন্ন আইডি ব্যবহার করে সংগঠনের জন্য পুরুষ সদস্য রিক্রুট করা ও নারী সদস্যদের ধর্মীয় প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে নারী সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করতেন। ইতিমধ্যে তিনি একাধিক নারী ও পুরুষ সদস্যকে রিক্রুট করেছেন যাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তার বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।