সোনারগাঁয়ের বারদী ইউনিয়নের নুনেরটেক গ্রামের পার্শ্ববর্তী মেঘনা নদীর পাশে চরহাজী মৌজায় এবার অবৈধভাবে জমি ভরাটে নেমেছে মডার্ন গ্রুপ নামে একটি কোম্পানি। স্থানীয়দের অভিযোগ, বেশিরভাগ জমি না কিনেই ওই কোম্পানি তড়িঘড়ি করে বালি ভরাটের কাজ শুরু করেছে।
এর আগে ওই কোম্পানি একই মৌজায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মেঘনা নদী দখল করে জেটি নির্মাণ করছে মডার্ন গ্রুপ! করে। বালি ভরাটের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল জড়িত থাকার কারণে ভয়ে জমির মালিকরা জমি ভরাটের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন।
এলাকাবাসী জানান, বারদী ইউনিয়নের মেঘনা নদীর তীরবর্তী চরহাজী মৌজার প্রায় ২৩০ বিঘা জমির ওপর ডকইয়ার্ড নির্মাণের জন্য কাজ শুরু করেছে মডার্ন গ্রুপ নামে একটি কোম্পানি। এখানে অধিকাংশ জমিই তারা এখনো জমির মালিকদের কাছ থেকে ক্রয় করেনি। অল্প কিছু জমি কিনেই ঢালাওভাবে পুরো জমি ভরাট শুরু করেছে।
বারদী ও নুনেরটেক এলাকার কিছু প্রভাবশালী লোক ওই কোম্পানির পক্ষ নিয়ে এ বালি ভরাটের কাজ করছে। ফলে বালি ভরাটের কাজে বাধা দিতে গেলেই স্থানীয়দের নানা ধরনের হুমকিধমকির শিকার হতে হচ্ছে।
সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, নুনেরটেকের চরহাজী মৌজায় মেঘনার তীরবর্তী ব্যক্তিমালিকানা জমিতে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালি ভরাটের কাজ করছে মডার্ন গ্রুপ। বর্ষার পানিতে ওই জমি ডুবে যাওয়ার সুযোগে ঢালাওভাবে জমি ভরাট করে দখলে নিচ্ছে কোম্পানিটি। অবৈধ বালি ভরাটের কারণে গত বুধবার স্থানীয় ফাঁড়ি পুলিশ ৫ জন ড্রেজার শ্রমিককে আটক করে নিয়ে গেলে প্রভাবশালী মহল তাদের ছাড়িয়ে আনার পর আবারও শুরু হয়েছে বালি ভরাটের কাজ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জমির মালিক জানান, চরহাজী মৌজায় আমার ১০ বিঘা জমি রয়েছে, যা এখনো মডার্ন গ্রুপ আমার কাছ থেকে কিনে নেয়নি কিন্তু তারা আমার জমিসহ বালি ভরাট করছে। আমি তাদের হুমকিধমকির ভয়ে এর কোনো প্রতিবাদ করতে পারছি না।
এ ব্যাপারে মডার্ন গ্রুপের প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার এস এম মুছা জানান, আমরা ক্রয়কৃত জমিতেই বালি ভরাট করছি। তবে কিছু জমি বায়নাকৃত অবস্থায় রয়েছে। সেগুলো শিগগিরই রেজিস্ট্রি করা হবে।
সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল মামুন জানান, মডার্ন গ্রুপ যদি সাধারণ মানুষের জমি না কিনে বালি দিয়ে ভরাট করে থাকে তাহলে ওই কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।