পাঁচ শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যু

দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও মধ্যাঞ্চলে অপরিবর্তিতসহ বেশিরভাগ অঞ্চলে স্থিতিশীল রয়েছে। গত ১১ জুলাই থেকে দ্বিতীয় দফার এ বন্যায় সরকারি হিসাবে দুর্গত ১৮ জেলার ৯২ উপজেলার ৫৩৫ ইউনিয়নে সোয়া ২২ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে গতকাল শনিবার বন্যার পানিতে ডুবে কুড়িগ্রামে তিন শিশুসহ চারজন ও জামালপুরে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা সতর্কীকরণ ও পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী ও ঢাকা জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন স্থিতিশীল থাকবে। উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, নাটোর, সিরাজগঞ্জ এবং জামালপুর, টাঙ্গাইল ও মানিকগঞ্জের পরিস্থিতি উন্নতি হবে। দেশের নদনদীর ১০১টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ৪১টি পয়েন্টে পানি বেড়েছে। এর মধ্যে বিপদসীমার ওপরে ২২টি। আর ৫৯টি পয়েন্টে পানি কমেছে। তবে ভারী বৃষ্টির কারণে আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও কিছু পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপরে উঠে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

এর মধ্যে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদনদীগুলোর পানি কমছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। গঙ্গা-পদ্মার উপ ও শাখা নদনদীগুলোর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় এসব নদীর পানি কমতে পারে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মেঘনার উজানের অববাহিকার প্রধান নদীগুলোর পানি কমছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদ জামালপুর পয়েন্টের পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।

গাইবান্ধায় পরিস্থিতির উন্নতি : ব্রহ্মপুত্র নদ, করতোয়া, তিস্তা ও ঘাঘট নদীর পানি কমে গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়েছে। তবে দুর্গত এলাকায় অনেকে ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। রয়েছে খাদ্য ও সুপেয় পানির সংকট।

কুড়িগ্রামে পানিতে ডুবে ৪ জনের মৃত্যু : কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি এখনো বিপদসীমার ওপরে থাকায় নিম্নাঞ্চলের দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি। তারা খাদ্য ও সুপেয় পানির সংকটে ভুগছে। চারণভূমি তলিয়ে যাওয়ায় পশুখাদ্যেরও সংকট দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে গতকাল বন্যার পানিতে ডুবে জেলার উলিপুরে দুই শিশু, নাগেশ্বরীতে এক শিশু ও চিলমারীতে গ্রামপুলিশের এক সদস্যসহ চার জনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে দু’দফার বন্যায় জেলায় পানিতে ডুবে ১৪ শিশুসহ ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানান জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমান।

জামালপুরে ২ শিশুর মৃত্যু : জামালপুরে যমুনার পানি কমলেও দ্রুত বাড়ছে ব্রহ্মপুত্রের পানি। গতকাল বিকেলে বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১০৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এদিকে দুপুরে সদরের লক্ষ্মীপুরে বন্যার পানিতে ডুবে সাদিয়া আক্তার (১০) ও দেওয়ানগঞ্জের চরবাহাদুরপুরে সাজু মিয়া (৭) নামে দুজনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে দু’দফার বন্যায় পানিতে ডুবে জেলায় ১৮ জনের মৃত্যু হলো।

ঝুঁকিতে ফরিদপুর-সদরপুর সড়ক : ফরিদপুরে পদ্মার পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে গতকাল বিকেলে বিপদসীমার ১০৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে জেলা সদর থেকে চরভদ্রাসন ও সদরপুর উপজেলায় যাতায়াতের সড়ক ডুবে যায়। সড়কের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেওয়ায় চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সড়কটি চলাচলের উপযোগী করতে নির্দেশনা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক অতুল সরকার।

সিরাজগঞ্জে পরিস্থিতির অবনতি : জেলার শাহজাদপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের বাড়িঘর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ডুবে গেছে। তলিয়ে গেছে পাট, তিল, কাউন ও সবজি। এতে কৃষকরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সিরাজগঞ্জ পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী একেএম রফিকুল ইসলাম জানান, পানি খুব ধীরে নামায় বানভাসি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ঈদের আগে আরেক দফা পানি বৃদ্ধির আশঙ্কা করেন তিনি।

মানিকগঞ্জে সংকটে দুর্গতরা : মানিকগঞ্জে যমুনা নদীর পানি আরিচা পয়েন্টে গতকাল আরও ৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে দৌলতপুর, শিবালয় ও হরিরামপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এসব দুর্গত এলাকার মানুষ খাবার ও সুপেয় পানির সংকটে পর্যাপ্ত ত্রাণ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।