কোরবানির ঈদের আর সপ্তাহ দুয়েক বাকি। প্রতি বছর এ সময় সরগরম থাকে দেশে ভোগ্যপণ্যের বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ। কিন্তু করোনার কারণে এবারের চিত্র ঠিক উল্টো। ক্রেতাদের আনাগোনা নেই। সব ধরনের মসলার দামও কমেছে।
ব্যবসায়ীরা বলেছেন, করোনা মহামারীর কারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে মসলার বাজারে। আন্তর্জাতিক বাজার নিম্নমুখী হওয়ায় স্থানীয় বাজারেও এবার নানা মসলার দাম তুলনামূলক অনেক কম। কিন্তু তারপরও ক্রেতা মিলছে না।
৩০ বা ৩১ জুলাই দেশে ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে। কোরবানি সামনে রেখে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ মসলা বেচাকেনা হয়। এ সময় চাক্তাই খাতুনগঞ্জের মসলার বাজারে দেখা যায় অন্য রকম চিত্র। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা আসেন সেখানে। এ সুযোগে সিন্ডিকেট করে মসলার দাম বাড়িয়ে দিতেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু পর্যাপ্ত সরবরাহ ও দাম তুলনামূলক কম থাকা সত্ত্বেও করোনার কারণে ক্রেতা পাচ্ছেন না তারা। তাদের মতে, সারা বছর যে পরিমাণ মসলা বেচাকেনা চলে তার প্রায় অর্ধেক হয় কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে। কিন্তু এবার বেচাকেনা না থাকায় ব্যবসায়ীরা লোকসানের আশঙ্কা করছেন।
খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা যায়, দুই মাস আগে রমজানের সময় প্রতি কেজি ভারতীয় জিরা বিক্রি হয়েছে ৪৫০ টাকায়। আর এখন দাম নেমেছে ২৪০-২৪৫ টাকায়। একই সময় প্রতি কেজি ইরানি জিরা ৩৫০-৩৬০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন হচ্ছে ২৮০-৩০০ টাকায়। রমজানে টার্কি জিরা ৩০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন হচ্ছে ২৭৫-২৮০ টাকায়। সিরিয়ার জিরা রমজানে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন হচ্ছে ৩৪০ টাকায়। দুই মাস আগে এলাচ প্রতি কেজি ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ২ হাজার ৪৫০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় হচ্ছে। রমজানে ৭০০-৭৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া লবঙ্গের দাম এখন ৫৯০-৬০০ টাকা। ৩১০-৩৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া দারুচিনি এখন ২৫০-২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাংলাদেশ পাইকারি মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি অমর কান্তি দাশ দেশ রূপান্তরকে বলেন, কভিড-১৯-এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন ধরনের মসলার দাম কমে গেছে। ফলে দেশেও মসলার দাম অনেক কম। এলাচ, জিরা, লবঙ্গ, জায়ফল, দারুচিনি থেকে শুরু করে সব ধরনের মসলার দামই এখন পড়তির দিকে। কিন্তু তারপরও বাজারে ক্রেতা নেই। এর কারণ হিসেবে করোনায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া বলে মনে করেন তিনি।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সমিতির সভাপতি মসলা আমদানিকারক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অন্যান্য বছর এ সময়ে খাতুনগঞ্জে দৈনিক ১৫০-২০০ কোটি টাকা ব্যাংকিং লেনদেন হতো। কিন্তু এখন দিনে ৫ কোটি টাকাও হচ্ছে না।