কেরানীগঞ্জে ট্রাফিক পুলিশ কর্তৃক সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের হয়রানির অভিযোগ করেছেন একাধিক চালক। রাজধানী থেকে যাত্রী নিয়ে কোনো সিএনজি কেরানীগঞ্জে আসলে ঘুষের জন্য বিভিন্নভাবে চালকদের হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সিএনজি চালকদের একটি বেসরকারি সংগঠন ‘অনলাইন সিএনজি রাইডার্স এসোসিয়েশন’ এর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, ঢাকা মেট্রো সিরিয়ালের সিএনজি গাড়ি ব্রিজ পার হয়ে কদমতলী গোল চত্বর আসলেই এখানে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশেরা অর্থের জন্য বিভিন্নভাবে চালকদের আটকায়।
ট্রাফিক পুলিশদের টাকা না দিলে তারা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে গাড়ি রেকার দিয়ে আটকানো, মামলা দেয়ার হুমকিসহ নানানভাবে সিএনজি চালকদের হয়রানি করেন। এরপর চাহিদা মতো ২০০/৫০০ টাকা দিলে ছেড়ে দেয়া হয়।
আনোয়ার হোসেন নামে এক সিএনজি ড্রাইভার অভিযোগ করেন, কয়েকদিন আগে এলিফ্যান্ট রোড থেকে কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা পর্যন্ত এক যাত্রী নিয়ে আসি, বাবু বাজার ব্রিজ পার হয়ে কদমতলী গোলচত্বর এলাকায় আসলে এক ট্রাফিক পুলিশ আমার গাড়ি আটকায়। এবং বলে তর তো ঢাকার গাড়ি, কেরানীগঞ্জে কেন নিয়ে আসছস? আমার কাগজ ছিনিয়ে নেয় এবং ৫০০ টাকা দাবি করে। পরে আমি ২০০ টাকা দিয়ে আমার কাগজ ছাড়িয়ে নিয়ে চলে আসি।
মো. রোকন নামে এক চালক বলেন, আমার গাড়িটি প্রাইভেট নাম্বারের। আমি ঢাকায় গাড়ি চালাই, চুনকুটিয়া স্টান্ডে গাড়ি রাখি। কদমতলী থেকে সচরারচর যাত্রী নেই না পুলিশের ঝামেলার কারণে। কয়েকদিন আগে গোলচত্বরে দাঁড়িয়েছিলাম কিছু সময় যাত্রী নেয়ার জন্য। তখন এক ট্রাফিক পুলিশ এসে আমার গাড়ি আটকায় বলে ঢাকার গাড়ি কেরানীগঞ্জে কেন ঢুকসো। তারপর বলে যাত্রী উঠানোর জন্য এখানে গাড়ি রাখলে মাসিক মাসোয়ারা দিতে হবে। তা হলে গাড়ি রাখা যাবে। এরপরে কোনমতে তাকে ১০০ টাকা দিয়ে আমি চলে আসি।
আরও কয়েকজন অটোরিকশা চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কদমতলী গোলচত্বরে বেশকিছু সিএনজি গাড়ি থাকে তারা নিয়মিত ট্রাফিক পুলিশদের মাসোয়ারা দেয়। এদের বাইরে কেউ কদমতলী থেকে যাত্রী উঠাতে পারে না। নির্দিষ্ট কিছু গাড়ির বাইরে কেউ যাত্রী উঠাতে চাইলেই ট্রাফিক পুলিশ ঝামেলা করে। এই কারণে ঢাকার থেকে সিএনজি চালকরা কেরানীগঞ্জে আসতে চায় না। এতে তাদের চেয়ে কেরানীগঞ্জবাসীই বেশি ক্ষতি হয়।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলা দক্ষিণ ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক নুরুল ইসলাম মল্লিক বলেন, আমাদের নিয়মিত রুটিন ওয়ার্ক আছে, লাইসেন্স চেক করি, কাগজপত্র ঠিক আছে কিনা চেক করি। যে গাড়ির সমস্যা পাওয়া যায় সে ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়। আরেকটা বিষয় যে গাড়িগুলো নিয়ম মেনে চলে সেইসব গাড়িগুলো আমাদের পুলিশরা ধরে না।
তিনি বলেন, ওই পাড়ের সিএনজিগুলো এসেই গাড়িগুলো কদমতলী মোড়ে নামিয়ে দেয় জ্যাম সৃষ্টি করে। আর কাগজ নিয়ে কিছু টাকা দিলে ছেড়ে দেয় এ ব্যাপারটা অসত্য। এ ব্যাপারে কোনো চালক যদি প্রমাণসহ অভিযোগ দেয় ব্যবস্থা নেবো।