একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম দন্ড থেকে খালাস চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে রিভিউ আবেদন (রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন) করেছেন। মৃত্যুদ- বহাল রেখে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের অনুলিপি (সার্টিফায়েড কপি) পাওয়ার পর গতকাল রবিবার আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় তার পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির এ আবেদন করেন। আবেদনে খালাস চেয়ে ১৪টি যুক্তি (গ্রাউন্ড) তুলে ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘দুপুরে সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার পর আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিভিউ ফাইল করেছি। আদালতের নিয়মিত কার্যসূচি অনুযায়ী আবেদনটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসবে।’ এর আগে গত শনিবার রিভিউ পিটিশন প্রস্তুতের কথা জানান শিশির মনির।
মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদ-ের রায়ের বিরুদ্ধে আজহারের আপিল আংশিক মঞ্জুর করে গত বছরের ৩১ অক্টোবর সর্বোচ্চ সাজা বহাল রাখে আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ এ রায় দেয়। গত ১৫ মার্চ আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে বিচারপতিদের স্বাক্ষরিত রায়ের অনুলিপি বিচারিক ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। আইন অনুযায়ী রিভিউ আবেদন খারিজ হলে কারাবিধি অনুযায়ী তার ফাঁসির দ- কার্যকরের ব্যবস্থা নেবে সরকার। অবশ্য দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষার আবেদনের সুযোগ থাকবে আজহারের সামনে। যদি সেই আবেদনও নাকচ হয়ে যায় তাহলে দ- কার্যকরে কোনো বাধা থাকবে না।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এ টি এম আজহারকে ২০১২ সালের ২২ আগস্ট মগবাজারের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। জামায়াতের সহযোগী সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের রংপুর শাখার তখনকার সভাপতি ও আলবদর বাহিনীর রংপুর অঞ্চলের কমান্ডার এ টি এম আজহারকে মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যার তিনটি অভিযোগে ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর মৃত্যুদন্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।