রিজেন্টের দুর্নীতির নথির খোঁজে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে দুদক

করোনা পরীক্ষার ভুয়া সনদসহ বহুমাত্রিক জালিয়াতিতে আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতাল ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদের দুর্নীতির নথিপত্র সংগ্রহে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে গিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান দল। গতকাল রবিবার দুপুর পৌনে ১টায় দুদকের ওই দল স্বাস্থ্য ভবনে প্রবেশ করে সাড়ে ৩টার দিকে সেখান থেকে বের হয়। চার সদস্যের এই দলের নেতৃত্বে ছিলেন অনুসন্ধান দলের প্রধান ও কমিশনের উপপরিচালক আবু বকর সিদ্দিক। তারা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেন।

অধিদপ্তরে হঠাৎ করে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে আবু বকর সিদ্দিক উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘রিজেন্ট হাসপাতাল সংক্রান্ত কিছু নথিপত্র সংগ্রহের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আমরা সশরীরে উপস্থিত হয়েছি। তারা নথিগুলো দেননি। বলেছেন সোমবার দুদক কার্যালয়ে তারা ওইসব নথিপত্র পাঠিয়ে দেবেন।’

রিজেন্টের সঙ্গে চুক্তিপত্রে কোনো অসংগতি পাওয়া গেছে কি না জানতে চাইলে এই দুদক কর্মকর্তা বলেন, ‘সম্পূর্ণ রেকর্ড হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে কিছু অসংগতি আমরা পেয়েছি। যেমন করোনা টেস্টের জন্য কোনো টাকা নেওয়ার কথা না থাকলেও রিজেন্ট হাসপাতাল টাকা নিয়েছিল। আসলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রেকর্ডপত্র পাওয়ার পরেই আমরা সবকিছু বলতে পারব।’

লাইসেন্সবিহীন রিজেন্ট হাসপাতালকে কভিড-১৯ চিকিৎসা ও নমুনা পরীক্ষার অনুমোদন দেওয়ায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রায় এক ডজন কর্মকর্তাকে তলব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। তাদের চলতি সপ্তাহের যেকোনো দিন তলবি নোটিস পাঠানো হবে বলে কমিশনের অনুসন্ধান দলের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, নথিপত্রে ও সই-স্বাক্ষরে সম্পৃক্ততা থাকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ডা. আবুল কালাম আজাদ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. নাসিমা সুলতানা, হাসপাতাল ও ক্লিনিক বিভাগের পরিচালক ডা. আমিনুল হাসান, একই বিভাগের উপপরিচালক ডা. ইউনুস আলী এবং সহকারী পরিচালক শফিউর রহমানসহ প্রায় এক ডজন কর্মকর্তাকে ডাকার জন্য তালিকা করা হয়েছে। তাদের কমিশন কয়েক ধাপে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। এছাড়া সাক্ষী হিসেবে ডাকা হবে জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম) পরিচালক বায়োজিত খুরশিদ রিয়াজসহ কয়েকজনকে। এর বাইরে কমিশন ভুয়া সনদ পাওয়া ভুক্তভোগীদেরও সাক্ষ্য নেবে।

দুদকের পরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য দেশ রূপান্তরকে জানান, গত ১৪ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চেয়ে প্রায় ২০টি প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠায় কমিশনের অনুসন্ধান দল। সাহেদের নানা প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গত ১৩ জুলাই তিন সদস্যের দল গঠন করে দুদক। করোনা সনদ জালিয়াতির অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালের দুটি শাখা সিলগালা করার পর ১৫ জুলাই গ্রেপ্তার করা হয় সাহেদকে। তাকে বর্তমানে রিমান্ডে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।