ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়াতে এক ব্যক্তির কোম্পানি ব্যবস্থার বিধান রেখে ‘কোম্পানি (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০২০’-এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য খসড়া আইনটি আজ সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে তোলা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে আজ মন্ত্রিসভা বৈঠক হবে। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে আর মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষ থেকে এ বৈঠকে অংশ নেবেন। এছাড়া মন্ত্রিসভার সদস্যদের কাছে পাঠানো বৈঠকের এজেন্ডায় ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০২০’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়টিও রয়েছে।
সংশোধনের জন্য প্রস্তুত কোম্পানি আইনে একজন ব্যক্তি একাই একটি কোম্পানি খুলে ব্যবসা করতে পারবেন। বিদ্যমান আইনে যার কোনো সুযোগ নেই। দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির জন্য কোম্পানি নিবন্ধন ও পরিচালনার বিষয় চূড়ান্ত করে কোম্পানি আইন সংশোধন করা হচ্ছে। ১৯৯৪ সালের বিদ্যমান কোম্পানি আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশে কোনো কোম্পানির নিবন্ধন নিতে হলে একাধিক ব্যক্তির মালিকানা থাকার বিধান রয়েছে। একক কোনো ব্যক্তি কোম্পানি নিবন্ধন ও পরিচালনা করতে পারে না। পাশের দেশ ভারতের শিল্পপতি ড. জামশেদ জিজি ইরানি ২০০৫ সালে দেশটিতে প্রথম এক ব্যক্তি কোম্পানি সম্পর্কে ধারণা তুলে ধরেন। ২০১৩ সালে ভারত সে দেশের আইন সংশোধন করে এক ব্যক্তির কোম্পানি নিবন্ধন ও পরিচালনার প্রচলন করে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কোম্পানি আইনের বেশকিছু ধারা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়ে খসড়াটি মন্ত্রিসভায় পাঠানোর পর তাতে এক ব্যক্তির কোম্পানি প্রথা অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়।
বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন খসড়া কোম্পানি আইন নিয়ে গতকাল রাতে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। আজ এ বিষয়ে প্রয়োজন হলে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এক ব্যক্তি কোম্পানি ব্যবস্থা চালু হলে দেশে বিনিয়োগ বাড়বে। ভারতসহ বিভিন্ন দেশ এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে সফল হয়েছে। বাংলাদেশও কোম্পানি আইন সংশোধন করে এক ব্যক্তি কোম্পানি নিবন্ধন ও পরিচালনার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করছে।
জানা গেছে, সংশোধিত কোম্পানি আইনে একজনই শতভাগ শেয়ারের মালিক হবেন। তবে কোম্পানি স্মারকে তার একজন উত্তরাধিকারী বা মনোনীত ব্যক্তির নাম দিতে হবে। কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারের মৃত্যুর পর তিনি ওই কোম্পানির মালিক হবেন। শেয়ারহোল্ডারের মৃত্যুর আগেই মনোনীত ব্যক্তি মারা গেলে অন্য কোনো উত্তরাধিকার বা মনোনীত ব্যক্তি নির্ধারণ করা যাবে। এক ব্যক্তি কোম্পানির ক্ষেত্রে তার একমাত্র সদস্যই কোম্পানির প্রথম পরিচালক হিসেবে গণ্য হবেন। তিনি ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনে বিভিন্ন পদে যেমন পরিচালক, ম্যানেজার ও কোম্পানি সচিব নিয়োগ করতে পারবেন। তবে তাদের শেয়ারের কোনো অংশ থাকবে না। এক ব্যক্তি কোম্পানিরও বার্ষিক সাধারণ সভার আয়োজন করতে হবে।
ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহীম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এটা আমাদের অনেক দিনের দাবি ছিল। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে এই এক ব্যক্তির কোম্পানির সিস্টেম আগে থেকেই রয়েছে। অবশেষে এটা বাংলাদেশেও হতে যাচ্ছে বিধায় আমরা খুশি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এতে একক ব্যক্তি ব্যাংকিং ও অনেক ফাইন্যান্স ইনসেনটিভে নিজেদের নেগোসিয়েশন বাড়াতে পারবেন। লং টার্মে এতে ব্যক্তি বিনিয়োগ বাড়াবে। তবে এর চেয়ে বড় কথা হলো, ব্যক্তি কোম্পানি গঠনে যে প্রতিবন্ধকতা ছিল তা কেটে গেল। এতে অর্থায়ন সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা কমে গেল।
ট্রাভেল এজেন্সির শাখা খোলা যাবে : নির্ধারিত সময়ের পর জরিমানা দিয়ে ট্রাভেল এজেন্সি নবায়নের সুযোগ ও শাখা খোলার বিধান রেখে ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০২০’-এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। খসড়াটি অনুমোদনের জন্য আজ মন্ত্রিসভা বৈঠকে তোলা হচ্ছে। এর আগে গত ২১ জানুয়ারি খসড়াটির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল মন্ত্রিসভা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩’ প্রণয়ন করা হয়। ওই আইনটিতে কিছু অস্পষ্টতা থাকায় ট্রাভেল এজেন্সির সেবা প্রদানে ক্ষেত্রবিশেষে নানা জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সনদ নবায়নের আবেদন করতে না পারলে ওই এজেন্সির নবায়নের আর সুযোগ থাকে না। বর্তমান আইনে মালিকানা হস্তান্তরের বিধান নেই। এ কারণে আইনটি যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নবায়ন আবেদন করা না গেলে নির্ধারিত জরিমানা দিয়ে নবায়নের আবেদন করার সুযোগ রাখা হচ্ছে। এছাড়া ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধন সনদ হস্তান্তর ও শাখা কার্যালয় স্থাপনের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নিবন্ধন কর্র্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা আরোপের বিধান রাখা হয়েছে। শাস্তির মেয়াদ বাড়িয়ে ও মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ‘কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর, ১৯৯৮’-এর বিধান কার্যকর করা হচ্ছে।