স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী কেনায় দুর্নীতি

কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের ৩ কর্মকর্তাকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ

মাস্ক, পিপিই ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সরঞ্জাম কেনায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বেশকিছু অভিযোগে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) তিন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল রবিবার সকাল ১০টা থেকে শুরু করে পাঁচ ঘণ্টা ধরে ওই তিন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা তিন কর্মকর্তা হলেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক সহকারী পরিচালক (মজুদ ও বিতরণ) ও বর্তমানে সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. শাহজাহান, সাবেক ডেস্ক অফিসার-৮ ও স্টোরের অতিরিক্ত দায়িত্বরত ডা. সাব্বির আহম্মেদ এবং স্টোর অফিসার কবির আহম্মেদ।

সিএমএসডি কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলওয়ার বখত সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সিএমএসডিসহ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে করোনাকালে স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী কেনায় জালিয়াতি এবং করোনা পরীক্ষার ভুয়া সনদ দিয়ে অবৈধ সম্পদ অর্জনের বেশকিছু অভিযোগ কমিশনে এসেছে। কমিশন সেগুলো আমলে নিয়ে একাধিক অনুসন্ধান দল গঠন করেছে। অনুসন্ধান দল এসব অনিয়মের সঙ্গে সম্পৃক্ত বা জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো কর্মকর্তাকে তলব করতে পারবে। এ বিষয়ে তাদের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।’

করোনার সনদ জালিয়াতির ঘটনায় জেকেজির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী, সিইও আরিফুল হক চৌধুরী এবং রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদের দুর্নীতিতে সহায়তাকারী হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে তলবের বিষয়ে জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘এ বিষয়ে আলাদা দুটি টিম কাজ করছে। তারা যাদের যাদের প্রয়োজন সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। সেখানে ডিজি এডিজি অনেকের নামই থাকতে পারে।’

এর আগে গতকাল সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত সিএমএসডি কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদকের পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে থাকা অনুসন্ধান দল। গত ১২ জুলাই মীর জয়নুল আবেদীন শিবলী স্বাক্ষরিত এক নোটিসে সিএমএসডির ছয় কর্মকর্তাকে কমিশনে তলব করা হয়। অন্য তিন কর্মকর্তার আজ সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার তারিখ রয়েছে। তারা হলেন সিনিয়র স্টোরকিপার ইউসুফ ফকির, উপপরিচালক ও পিঅ্যান্ডসি ডা. জাকির হোসেন, সাবেক মেডিকেল অফিসার (চিফ কো-অর্ডিনেটর) ডা. জিয়াউল হক।

সিএমএসডির ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, ‘স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং সিএমএসডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কভিড-১৯-এর চিকিৎসার জন্য নিম্নমানের মাস্ক, পিপিই ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সরঞ্জাম ক্রয়সহ তা বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহের নামে অন্যদের যোগসাজশে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে কমিশনে। এ অভিযোগ অনুসন্ধানে তাদের বক্তব্য শ্রবণ ও গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা আছে।’