সংবাদ সম্মেলনে বিসিএসআইআর

বাংলাদেশে করোনার ৮ স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বিশ্বের কোথাও নেই

দেশে ১৭১টি করোনাভাইরাসের নমুনার জিনোম সিকুয়েন্স বা জীবন রহস্য উন্মোচন করেছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)। গবেষণায় ৮টি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেছে, যা পৃথিবীর অন্য কোথাও পাওয়া যায়নি। এগুলো অণুজীব বিজ্ঞানের জন্য এক বড় গবেষণার ক্ষেত্র তৈরি করেছে।

গতকাল রবিবার এক সংবাদ সম্মলনে বিসিএসআইআর এসব তথ্য তুলে ধরে গবেষণার ফল করোনাভাইরাসের জীবন রহস্য উন্মোচনের বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ড্যাটায় (জিআইএসএআইডি) প্রকাশের কথা জানিয়েছে।

বিসিএসআইআরের বায়োলজিক্যাল রিসার্চ বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সেলিম খান বলেন, ‘করোনাভাইরাসে ১ হাজার ২৭৪টি প্রোটিন থাকে। বাংলাদেশে ভাইরাসটিতার জিনোমিক পর্যায়ে ৫৯০টি স্বতন্ত্র রূপ পরিবর্তন করেছে। এ সময় প্রোটিন পর্যায়ে পরিবর্তন ঘটেছে ২৭৩ বার। অর্থাৎ প্রোটিন পর্যায়ে সব স্তরে পরিবর্তন ঘটেনি। যতগুলো জিনোম সিকুয়েন্স করা হয়েছে সবগুলোতে ডি-৬১৪জি পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। এর কারণে বাংলাদেশে করোনার ব্যাপক সংক্রমণ হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের গবেষণায় জিন পর্যায়ে ৮টি ইউনিক স্বতন্ত্র রূপ পাওয়া গেছে, যা পৃথিবীর আর কোথাও ঘটেনি।’

সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, ‘বাংলাদেশে করোনার এসব জীবন রহস্যের সঙ্গে ইতালির ভাইরাসের বেশি মিল রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত বলার সময় আসেনি। লক্ষ্য অনুযায়ী ৩০০টি করোনা নমুনার জীবন রহস্য উন্মোচন করতে পারলে বাংলাদেশ টিকা ও ওষুধ উৎপাদনে অংশীদার হতে পারবে।’

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশের (এনআইএলএমআরসি) পরিচালক অধ্যাপক একেএম শামসুজ্জামান বলেন, ‘বিসিএসআইআরের জিনোম সিকুয়েন্সিংয়ে নতুন গবেষণার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। এখানে পাওয়া ইউনিক বিষয়গুলো ভাইরাস বিদায় নেওয়ার পরও দীর্ঘদিন অণুজীব বিজ্ঞানের বড় গবেষণার বিষয় হয়ে থাকবে।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের জীবনরহস্য উন্মোচনে সংক্রমণ ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে আট বিভাগ থেকে ৩০০টি করোনা কেসের  নমুনা, মেডিকেল হিস্ট্রি ও জিনোম সিকুয়েন্সিং প্রকল্প চলছে। এ কাজে বিসিএসআইআরকে সহযোগিতা করছে এনআইএলএমআরসি। মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ বিস্তারের মাধ্যমে করোনার জিনোম ক্রমাগত পরিবর্তিত হতে থাকে। এই পরিবর্তনগুলো রেকর্ড ও বিশ্লেষণ করে ভাইরাসটির জিন ঠেকানো সম্ভব। সারা দেশে করোনা ছড়িয়ে পড়ার প্রাক্কালে অঞ্চলভেদে ভাইরাসটি তার স্বতন্ত্র রূপ (মিউটেশন) তৈরি করতে পারে। সেক্ষেত্রে জীবনরহস্য উন্মোচনের মাধ্যমে অঞ্চলভিত্তিক এই স্বতন্ত্র ভাইরাস শনাক্তকরণের মাধ্যমে মহামারীর দ্বিতীয় পর্যায়ে দ্রুত প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বিসিএসআইআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শওকত। আরও বক্তব্য দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আনোয়ার হোসেন।