রিজেন্টের করোনা রিপোর্ট জালিয়াতি

ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিস

করোনাভাইরাস পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে বেসরকারি রিজেন্ট হাসপাতালের জালিয়াতির পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রকাশ এবং তাদের ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণের ঘোষণা চেয়ে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন চিলড্রেন চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের পরিচালক অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসানের পক্ষে সংগঠনের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আবদুল হালিম গতকাল রবিবার ই-মেইলে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিমসহ স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বরাষ্ট্র সচিব ও হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর এ নোটিস পাঠান।

কভিড টেস্ট করানো হয় এমন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তালিকা, স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত হাসপাতালের নাম ও সংখ্যা প্রকাশ এবং করোনা টেস্ট ও করোনা চিকিৎসার হাসপাতালগুলো মনিটরিংয়ে প্রতিটি পুলিশ স্টেশনে একটি করে কমিটি গঠনেরও ঘোষণা চাওয়া হয়েছে নোটিসে। এছাড়া রিজেন্ট থেকে কভিড-১৯-এর ভুয়া সনদ দেওয়ায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রকাশ, রিজেন্টের প্রতারণার কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতিটি পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া, করোনা চিকিৎসাসেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে প্রতি সপ্তাহে প্রতিবেদন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এবং এ লক্ষ্যে একটি নীতিমালা তৈরি করার ঘোষণা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ সংক্রান্ত ক্ষতিপূরণ সরকার চাইলে রিজেন্ট হাসপাতাল থেকে আদায় করতে পারে বলেও নোটিসে বলা হয়েছে। নোটিসপ্রাপ্তি সাপেক্ষে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এর ব্যত্যয় হলে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে জানান ব্যারিস্টার আবদুল হালিম।

তিনি বলেন, সরকার স্বাস্থ্যসেবার জন্য অনেক প্রণোদনা দিচ্ছে। কিন্তু মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের সঠিক সুপারভিশন না থাকার কারণে এসব জালিয়াতির ঘটনা ঘটছে। এটার দায় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর এড়াতে পারে না।

গত ৬ জুলাই রাতে রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালানোর পর সেখান থেকে করোনার ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার প্রমাণ পায় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরদিন হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিমসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা হয়। গত ৭ জুলাই হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখার কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণার পাশাপাশি উত্তরায় রিজেন্ট হাসপাতালের প্রধান কার্যালয় সিলগালা করে দেওয়া হয়। গত ১৫ জুলাই ভোরে সাহেদকে সাতক্ষীরা থেকে গ্রেপ্তারের পরদিন ঢাকার একটি আদালতে হাজির করা হলে ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার মামলায় তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেয় আদালত।