আরব দুনিয়ার প্রথম মহাকাশ অভিযান। তাই হোপ-এর উৎক্ষেপণের দিকে তাকিয়ে ছিল গোটা বিশ্ব। জাপানের তানেগাশিমা স্পেস সেন্টার থেকে জাপানি রকেটে করে হোপ-এর নিখুঁত উৎক্ষেপণ হলো। এর মধ্য দিয়ে সফলভাবে শুরু হলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের মঙ্গলগ্রহ অভিযান। গতকাল সোমবার জাপানের রকেটে করে আমিরাতের মহাকাশযান হোপ গেল লাল গ্রহের দিকে।
আরবের এই দেশটির মঙ্গলযাত্রা ওই অঞ্চলের নারীদের জন্যও একটি মঙ্গলবার্তা। অভিযানের বিজ্ঞানীদের নেতা একজন নারী।
হোপ বা আশা নামের প্রকল্পের ডেপুটি ম্যানেজার এবং বিজ্ঞানী দলের প্রধান সারাহ আমিরি নামের এই নারীকে তিন বছর আগে দেশটির বিজ্ঞানীদের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হয়। তারপর বিশ্বের প্রথম আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স মন্ত্রীও করা হয় তাকে। ১২ বছর বয়সে সারাহ আমিরি এমন এক স্বপ্ন দেখেছিলেন মধ্যপ্রাচ্যের কোনো নারীর জন্য যা ছিল বাস্তবতাবর্জিত। অবশেষে তার ‘নেতৃত্বেই’ আরব বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে মঙ্গল অভিযান শুরু করেছে আরব আমিরাত। আমিরির কর্মজীবন শুরু হয়েছিল কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। পরে আমিরাতের ইনস্টিটিউশন ফর অ্যাডভান্সড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে মহাকাশ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার সুযোগ পান তিনি।
বিবিসি, ডয়েচে ভেলে, খালিজ টাইমসসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২১-এর ফেব্রুয়ারিতে মঙ্গলের কক্ষপথে ঢুকবে হোপ। তারপর দুই বছর ধরে মঙ্গলের চারপাশে ঘুরবে। মহাকাশযানের যন্ত্রপাতি মঙ্গলের উপরিভাগের আবহাওয়া সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে পাঠাবে।
আমিরাতের দাবি, তাদের এই মঙ্গল অভিযানের ফলে বিভিন্ন ঋতুতে লাল গ্রহের আবহাওয়া কেমন থাকে তা জানা যাবে। হোপ এ বিষয়ে পুরো তথ্য দেবে, যা আগে পাওয়া যায়নি। গত ১৪ জুলাই হোপের মহাকাশে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার জন্য দুই বার উৎক্ষেপণ পিছিয়ে দিতে হয়।
মঙ্গল অভিযানের কথা আমিরাত প্রথম ঘোষণা করে ২০১৪ সালে। এতদিন পর্যন্ত তারা ছিল পুরোপুরি তেল-নির্ভর দেশ। সেখান থেকে সরে এসে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা পাওয়ার প্রয়াস শুরু হয় তখন থেকে। নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি হওয়া হোপ-এর সাফল্যের দিকে আমিরাত অনেক আশা নিয়ে তাকিয়ে আছে। কারণ তাদের লক্ষ্য ২১১৭ সালে মঙ্গলে বসতি স্থাপন করা।
আমিরাত মঙ্গল অভিযানের প্রধান ওমর শরাফ বলেছেন, এটা আরবের তরুণদের কাছেও আশার বার্তা পাঠিয়েছে। যদি আমিরাতের মতো নবীন দেশ ৫০ বছরের কম সময়ের মধ্যে মঙ্গলে পৌঁছতে পারে, তাহলে আমরা এবং এই এলাকার দেশগুলো অনেক কিছু করতে পারি।
এর আগে আমিরাত তিনটি উপগ্রহ পাঠিয়েছিল। কিন্তু তারা পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে কোনো অভিযান করেনি। এবারই তারা প্রথম মঙ্গলে মহাকাশযান পাঠাল।