বিলের জন্য লাশ বেঁধে রাখার অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর মালিবাগের প্রশান্তি হাসপাতালে রোগী মারা যাওয়ার পর চিকিৎসা বিলের জন্য শয্যার সঙ্গে মৃতের হাত বেঁধে রাখার অভিযোগ পিবিআইকে (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। একই সঙ্গে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তদন্তের প্রতিবেদন দেওয়ার পাশাপাশি হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের মারধর ও অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলার নির্দেশ দিয়ে তা গ্রহণ করতে থানার ওসিকে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর প্রশান্তি হাসপাতালের ওই ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত, মৃত ব্যক্তির স্বজনদের ক্ষতিপূরণ এবং অভিযোগ সত্য হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে গত ৭ জুলাই মৃতের বড় ভাই জসিমউদ্দিন রুবেলের পক্ষে আইনজীবী জহিরউদ্দিন লিমন একটি রিট আবেদন করেন। গতকাল ভিডিও কনফারেন্সে আবেদনের পক্ষে আইনজীবী জহিরউদ্দিন লিমন শুনানি করেন।

তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শুনানিতে বলেছি, ওই রোগী করোনা পজিটিভ ছিল। কিন্তু অসৎ উদ্দেশ্যে তার মৃত্যু সনদে সেটি উল্লেখই করেনি হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ। আদালত এ বিষয়টিও তদন্ত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে (ডিজি) প্রতিবেদন দিতে বলেছেন।’

গত ২৪ জুন একটি জাতীয় দৈনিকে ‘করোনায় মৃত, মালিবাগে টাকার জন্য বেঁধে রাখা হলো লাশের হাত’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। স্বজনদের অভিযোগ, নোয়াখালীর সুবর্ণচরের করোনায় আক্রান্ত সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কর্মকর্তা ডা. মহিনউদ্দিন পারভেজকে গত ১৪ জুন প্রশান্তি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে অনেকটা জবরদস্তি করে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয় হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ। এরপর রোগীর পরিবারকে টাকার জন্য ক্রমাগত চাপ দেয় হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা। ১৮ জুন ভোরে মহিনউদ্দিন পারভেজ মারা যাওয়ার পর চিকিৎসা বিলের জন্য হাসপাতালের শয্যার সঙ্গে মরদেহের হাত বাঁধা ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে মহিনউদ্দিনের স্বজনদের কাছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকার বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়। বিল বেশি হওয়ার অভিযোগ করে তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে রোগীর স্বজনদের মারধর ও হেনস্থা করা হয়। পরে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা হাসপাতালের বিল ও প্রায় ৬০ হাজার টাকা ওষুধের দাম দিয়ে ওইদিন সন্ধ্যায় মহিনউদ্দিনের লাশ নিয়ে যান তার স্বজনরা।