ভারতীয় পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ‘সেজুঁতি’

ভারতীয় ট্রান্সশিপমেন্ট পণ্য নিয়ে আসা কোস্টাল শিপ ‘এমভি সেজুঁতি’ ভিড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জাহাজটি বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) এক নম্বর জেটিতে বার্থিং করেছে। এর মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরকে ব্যবহার করে সেভেন সিস্টার হিসেবে পরিচিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে ভারতীয় পণ্য পরিবহণের যাত্রা শুরু হলো।

জাহাজটিতে আসা ৩০০ টিইইউস (টুয়েন্টি ফিট ইক্যুইভেলেন্ট ইউনিটস) কনটেইনারের মধ্যে ট্রান্সশিপমেন্ট পণ্যবাহী কনটেইনার রয়েছে চারটি। দুটিতে টাটা স্টিলের উৎপাদিত টিএমটি স্টিল বার ও অন্য দুটিতে ইটিসি অ্যাগ্রো প্রসেসিংয়ের উৎপাদিত মসুর ডাল রয়েছে। এর মধ্যে এসএম করপোরেশন নামের প্রতিষ্ঠানের আমদানি করা স্টিল বারের চালানটি যাবে আগরতলার জিরানীয়ায়। আর জেইন ট্রেডার্সের নামে আসা ডালের চালানটি যাবে আসামের করিমগঞ্জে।

এমভি সেজুঁতির শিপিং এজেন্ট ম্যাংগোলাইন লিমিটেডের ব্যবস্থাপক হাবিবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে জানান, দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের সময় জাহাজটি বহির্নোঙর থেকে বন্দর জেটিতে এসে পৌঁছে। জাহাজটিতে অন্যান্য কনটেইনারের সঙ্গে ট্রান্সশিপমেন্ট পণ্যের চারটি কনটেইনার রয়েছে। এগুলো বন্দর ইয়ার্ডে নামানোর পর বন্দর ও কাস্টমসের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে সড়কপথে আখাউড়া হয়ে ত্রিপুরা ও আসামের নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ট্রান্সশিপমেন্ট পণ্যবাহী জাহাজ এমভি সেজুঁতি সোমবার রাত ১টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছে। গতকাল দিনের জোয়ারে বন্দরের নিজস্ব পাইলটের মাধ্যমে জাহাজটিকে বহির্নোঙর থেকে এনসিটি-১ জেটিতে ভেড়ানো হয়। তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ভারতীয় পণ্য পরিবহনে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের বিষয়ে চুক্তি সম্পাদিত হয়। এ চুক্তির আওতায় প্রথম ট্রায়াল রান হিসেবে চার কনটেইনার পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে। ট্রানজিট চুক্তির আওতায় ট্রান্সশিপমেন্ট পণ্য পরিবহন পুরোদমে শুরু হলে এসব পণ্য থেকে বন্দরের নির্ধারিত ট্যারিফ শিডিউল অনুযায়ী পোর্ট ডিউজ, পাইলটেজ ফি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক চার্জ আদায় করা হবে। প্রতিটি কনটেইনারের বিপরীতে কাস্টমস তাদের রাজস্ব আদায় করবে। সড়ক ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় মাশুল আদায় করবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এছাড়া দেশের শিপিং এজেন্ট, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও কার্গো পরিবহন এজেন্টের আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

জানা যায়, ট্রানজিট পণ্য কতদিন বাংলাদেশে রাখা যাবে, তার ব্যাখ্যা দিয়ে গত ১৩ জুলাই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এক আদেশে বলা হয়, বন্দরে এ পণ্য আসার পর থেকে সাত দিনের মধ্যে পণ্যের চালানগুলো বাংলাদেশ ত্যাগ করতে হবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে সময় বাড়ানো যেতে পারে।

ভারতীয় পণ্য ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সাত ধরনের ফি আদায় করবে। এ সাতটি হলো প্রতি চালানের প্রসেসিং ফি ৩০ টাকা, প্রতি টনের জন্য ট্রান্সশিপমেন্ট ফি ২০ টাকা, নিরাপত্তা ফি ১০০ টাকা, এসকর্ট ফি ৫০ টাকা, কনটেইনার স্ক্যানিং ফি ২৫৪ টাকা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক ফি ১০০ টাকা।

ভারতীয় পণ্য পরিবহন করে আনা চালানটিতে প্রতি কনটেইনারে ২৫ টন পণ্য রয়েছে। এ হিসাবে কনটেইনারপ্রতি সরকারি ফি ও বন্দর মাশুল বাবদ প্রায় ১০০ ডলার পাচ্ছে বাংলাদেশ। এর বাইরে সড়কপথে চট্টগ্রাম থেকে আগরতলা পর্যন্ত পণ্য পরিবহন বাবদ কনটেইনারপ্রতি ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা ভাড়া পাবে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো। আনুষঙ্গিক খরচ ছাড়া সমুদ্র ও সড়কপথে পরিবহন ভাড়া এবং সরকারি ফিসহ সব মিলিয়ে কনটেইনারপ্রতি ৭৩০ ডলার আয় হতে পারে বাংলাদেশের। তবে চালানটি পরিবহন শেষে প্রকৃত আয়ের হিসাব জানা যাবে।