শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রেরণ সংক্রান্ত জালিয়াতির ঘটনায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সব পরিচালকের বিও হিসাব জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। একই সঙ্গে কোম্পানিটিতে বিশেষ নিরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এসইসি। কোম্পানির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত শেষে গতকাল এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে এসইসি।
এর বাইরে সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের অফিস ও কারখানা পরিদর্শন করে প্রতিবেদন জমা দিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) নির্দেশনা দিয়েছে এসইসি। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে এসইসিতে পরিদর্শন প্রতিবেদন দিতে ডিএসইকে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
এসইসি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ হিসাব বছরের অনুমোদিত লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিতরণ না করেই এসইসিতে লভ্যাংশ সংক্রান্ত কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দেয়। কিন্তু লভ্যাংশ না পেয়ে শেয়ারহোল্ডাররা এসইসি ও ডিএসইতে অভিযোগ জানান। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে এসইসি সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের উদ্যোক্তা, পরিচালক ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ধারণ করা সব শেয়ার জব্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করায় গতকাল এসইসি এক নির্দেশনায় শেয়ার রক্ষণাবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) ও ডিপোজিটরি পার্টিসিপেন্টকে (ডিপি) পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের উদ্যোক্তা, পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা ও কোম্পানি সচিবের বিও হিসাব জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে। যাতে তারা কোনো ধরনের শেয়ার কেনাবেচা করতে না পারে।
এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মূখপাত্র রেজাউল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালনা পর্ষদ ২০১৮-১৯ হিসাব বছরের জন্য ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে, যা পরবর্তীতে বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) অনুমোদন হয়। পরে ঘোষিত লভ্যাংশ বিতরণ করা হয়েছে এ মর্মে একটি প্রতিবেদন এসইসিতে জমা দেয়। কিন্তু কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররা লভ্যাংশ পাননি, এমন একাধিক অভিযোগ এসইসি ও ডিএসইতে জমা দেন। পরে কমিশন বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কোম্পানির পরিচালকদের বিও হিসাব জব্দ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এছাড়া কমিশন কোম্পানিটিতে বিশেষ নিরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর কোম্পানিটি পরিদর্শন করে ডিএসইকে সাত দিনের মধ্যে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
২০১৯ সালের ৩ নভেম্বর সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালনা পর্ষদ ২০১৮-১৯ হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। ঘোষিত লভ্যাংশ ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভায় অনুমোদন হয়। সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী এজিএমে অনুমোদনের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন হওয়া লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। আর লভ্যাংশ বিতরণ সংক্রান্ত কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দিতে হয় এসইসির কাছে। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি সুহৃদ কর্তৃপক্ষ এসইসিকে চিঠি দিয়ে জানায়, তারা সব বিনিয়োগকারীর বিও হিসাবে লভ্যাংশ জমা দিয়েছে। কিন্তু অনেক বিনিয়োগকারী লভ্যাংশ না পাওয়ার অভিযোগ জানান।
এ বিষয়ে সুহৃদের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, এসইসির কাছে লভ্যাংশের বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেখানে লভ্যাংশের ওয়ারেন্ট ইস্যুর কথা বলা হয়েছে। এছাড়া কোম্পানির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে, তা মূল্য সংবেদনশীল তথ্যের মাধ্যমে ডিএসই ও এসইসিকে জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে লভ্যাংশ ওয়ারেন্টের বিষয়টি স্থগিত রয়েছে। যে কারণে লভ্যাংশ বিতরণ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া কোম্পানি ঘোষিত ১০ শতাংশ লভ্যাংশকে বোনাসে রূপান্তরিত করার জন্য ইতিমধ্যে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন বিনিয়োগকারীরা।