বৈদেশিক গ্যারান্টির বিপরীতে নিবাসী প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় উৎস থেকে ঋণ গ্রহণের সুবিধা উন্মুক্ত করল বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান তার বিদেশস্থ মূল কোম্পানি থেকে প্রাপ্ত গ্যারান্টির বিপরীতে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিতে পারবে। এ সুবিধা ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়েছে।
বৈদেশিক মুদ্রা নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিদেশি মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানকে স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ দিতে পারে। তবে বৈদেশিক গ্যারান্টি বা জামানতের বিপরীতে যেকোনো দেশি বা বিদেশি মালিকানার কোম্পানিকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। করোনার কারণে চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় গ্যারান্টির বিপরীতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সহজ ঋণ সুবিধা প্রদানের জন্য এ শিথিলতা আনা হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
গতকালের সার্কুলারে বলা হয়, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কতিপয় নির্দেশনা পরিপালন করে বিদেশি গ্যারান্টির বিপরীতে নিবাসী প্রতিষ্ঠানকে ঋণ প্রদান করতে পারবে। এক্ষেত্রে বিদেশি গ্যারান্টি ঋণদানকারীর কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। গ্যারান্টির বিপরীতে কোনো ধরনের ফি প্রদান করা যাবে না। ঋণগ্রহীতা কর্তৃক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে গ্যারান্টি নগদায়ন করা হলে তা অতিসত্বর বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করতে হবে। সেই সঙ্গে ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নগদায়নকৃত অর্থ বিদেশে প্রেরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন নিতে হবে।
এতে আরও বলা হয়, আলোচ্য ক্ষেত্রে বৈদেশিক পেমেন্ট গ্যারান্টি হিসেবে ব্যাংক গ্যারান্টির অথবা স্ট্যান্ডবাই ঋণপত্র হতে হবে। ব্যাংক ব্যতীত অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণের সময় স্থানীয় ব্যাংক কর্তৃক ব্যাক-টু-ব্যাক বৈদেশিক গ্যারান্টির বিপরীতে একটি গ্যারান্টি ইস্যু করতে হবে।