মহম্মদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা সিদ্দিকী লিটনসহ ১৬ জনের নামে চাঁদাবাজি ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা করেছেন এক স্কুলছাত্রীর বাবা।
প্রেমঘটিত কারণে বিয়ের আগে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া ওই স্কুলছাত্রীর পরিবারকে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা লিটন জরিমানা করেন। ওই জরিমানার টাকা না দেওয়ায় লিটন স্কুলছাত্রীর বাড়ি থেকে গবাদি পশু, সাইকেল, ভ্যানসহ বিভিন্ন মালামাল লুটে নেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ঘটনাটি মাগুরা মহম্মদপুর উপজেলার নহাটা ইউনিয়নের পরমেশ্বরপুরের।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্যমতে, মহম্মদপুরের পরমেশ্বর গ্রামের ওই স্কুলছাত্রী সদর উপজেলার বেরইল পলিতা ইউনিয়নের ভাঙ্গুড়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে শাহাবুল ইসলামের (১৯) সঙ্গে প্রেমের সূত্র ধরে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় গত ১৬ জুলাই স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে মহম্মদপুর থানায় মামলা করলে ওইদিনই পুলিশ প্রেমিক শাহাবুলকে গ্রেপ্তার করে।
অন্যদিকে, এ মামলার আগে গত ১০ জুলাই মহম্মদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নহাটা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা সিদ্দিকী লিটন সালিশ বৈঠকের আয়োজন করে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ এনে স্কুলছাত্রীর পরিবারকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। যা দেওয়ার জন্য ১০ দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়। গত সোমবার ওই নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে টাকা না দেওয়ায় স্কুলছাত্রীর বাড়ি থেকে একটি গরু, চারটি ছাগল, বাইসাইকেল, ভ্যানসহ বিভিন্ন জিনিস লুট করা হয়।
তবে মোস্তফা সিদ্দিকী লিটন মোবাইল ফোনে বলেন, এ ধরনের কোনো সালিশে উপস্থিত ছিলাম না। আর চাঁদা দাবির প্রশ্নই ওঠে না।
মহম্মদপুর থানার ওসি তারক বিশ্বাস আওয়ামী লীগের নেতাসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, মারপিটের মাধ্যমে জখমসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে।