সিদ্ধিরগঞ্জে জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি কয়েক লাখ বাসিন্দা

গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) বাঁধের নিম্নাঞ্চলে ফের জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক লাখ বাসিন্দা।

রাস্তাা-ঘাট, ঘর-বাড়িতে হাঁটু সমান পানি। বৃষ্টির পানির সঙ্গে ড্রেনের নোংরা পানি বসতঘরে ঢুকে পড়েছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাঁধের ভেতরের নিম্নাঞ্চলের কয়েক লাখ বাসিন্দা।

গত জুন মাস থেকে ডিএনডিবাসীদের জলাবদ্ধতার কবল থেকে বাঁচাতে স্থানীয় সাংসদের নির্দেশে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন দুটি সেচ পাম্প চালু রয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলস্থ পাম্প হাউজের সেচ পাম্পের পাশাপাশি এ দুটি পাম্প চালুর পরও জলাবদ্ধতা কমছে না। 

জানা গেছে, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে ডিএনডির অভ্যন্তরে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলী, নয়াপাড়া, গোদনাইল, জালকুড়ি, সানারপাড়সহ বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চলের অনেক বাড়িঘর ও রাস্তাা-ঘাট পানিতে ডুবে গেছে।

কোথাও কোথাও বাসিন্দারা নৌকায় চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। এসব এলাকার বাসিন্দাদের যাতায়াতসহ বসবাসে নানা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুরা নোংরা পানির উপর দিয়ে যাতায়াত করায় নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এসব এলাকার ভাড়াটিয়ারা বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে বলেও জানায় ওইসব এলাকার বাড়িওয়ালারা। এভাবে ডিএনডির নিচু এলাকার লোকজন পানিবন্দি হয়ে দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছে।

ডিএনডি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (দ্বিতীয় ফেজ) প্রকল্পের এক সেনাকর্মকর্তা জানান, শিমরাইল পাম্প হাউজে পানি আসতে কোনো বাধা নেই। আমরা উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ২টি পাম্প চালু রেখেছি। দ্রুতই পানি নেমে যাবে বলেও তিনি জানান।

এদিকে ডিএনডির পানি নিষ্কাশনের শিমরাইলের পাম্প হাউসে গিয়ে দেখা যায়, এখানে পানির লেয়ার ৩ দশমিক চার যেখানে গতকাল ছিল ৩ দশমিক সাত।

ঢাকা যান্ত্রিক পাম্প হাউস (শিমরাইল পাম্প হাউস) বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রাম প্রসাদ বাছার জানান, বর্তমানে প্রতিটি ১২৮ কিউসেক ক্ষমতা সম্পন্ন ৩টি পাম্প চালু আছে। এর পাশাপাশি ৪০ কিউসেক ক্ষমতা সম্পন্ন ২টি এবং ৫ কিউসেক ক্ষমতা সম্পন্ন ৮টি পাম্প চালু রয়েছে।

তিনি আরও জানান, নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের পাম্প পানি ডেলিভারি করতে সময় নিচ্ছে।