আইসোলেশনেও বর্ণবাদের শিকার হওয়ার অভিযোগ আর্চারের

আইসোলেশনে থাকার সময়ও বর্ণবাদী আচরণের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ইংলিশ পেসার জোফরা আর্চার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তৃতীয় টেস্ট শুরুর আগে যা তাকে মানসিকভাবে অনেকটাই পিছিয়ে দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ডেইলি মেইলে নিজের কলামে ২৫ বছর বয়সী পেসার লিখেছেন, ‘গত কয়েকদিনে ইনস্টাগ্রামে যে ধরনের কটুকথা আমাকে বলা হয়েছে, তার বেশকিছু ছিল বর্ণবাদী।’

সাউদাম্পটন টেস্টের পর ‘বায়ো-সিকিউর’ বিধি ভঙ্গের দায়ে দ্বিতীয় টেস্টে নিষিদ্ধ হন আর্চার। জরিমানা দিয়ে পার পেলেও তাকে রাখা হয়েছিল আইসোলেশনে। ‘বায়ো-সিকিউর’ বিধি ভঙ্গের পর থেকেই খলনায়ক বনে গিয়েছিলেন এরই মধ্যে ইংল্যান্ড দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠা আর্চার। চারদিক থেকে ধেয়ে আসছিল সমালোচনা।

কিন্তু অনেকেই এই সময় বর্ণবাদী মন্তব্য করায় আর্চার বলছেন, ‘আমি ঠিক করেছি যথেষ্ট হয়েছে। ক্রিস্টাল প্যালেসের ফুটবলার উইলফ্রেড জাহা অনলাইনে এক ১২ বছর বয়সীর কাছে বর্ণবাদের শিকার হওয়ার পর আমি ঠিক করেছি, কোনোকিছুই আর উপেক্ষা করব না। এ জন্যই ইসিবির কাছে অভিযোগ করেছি এবং তা এখন সঠিক প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে।’

পাঁচ দিনের আইসোলেশনে দুইবার করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে আর্চারের। দুইবারই নেগেটিভ এসেছে ফল। শুক্রবার শুরু হতে যাওয়া ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ টেস্টের আগে দলে যোগ দেওয়ার অনুমতিও পেয়েছেন আর্চার।

কিন্তু শেষ ক’দিনের সমালোচনায় মনোবল ফিরে পেতে সংগ্রাম করতে হচ্ছে বলে জানান আর্চার। নিজের কলামে লিখেছেন, ‘নেটে বোলিংয়ে ফেরার সময় অনুভব করেছি, ঠিক যেন তাগিদ পাচ্ছি না। আইসোলেশন থেকে প্রথমবার রুমের বাইরে পা রাখার পর প্রতিটি পদক্ষেপে ক্যামেরার ক্লিকের শব্দ শুনতে পেয়েছি। পুরো ব্যাপারটিই আমাকে অস্বস্তিতে ফেলেছে।’

নিজের মনের অবস্থায় নিয়ে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলেছেন। সোমবার রাতে সতীর্থ বেন স্টোকসের সঙ্গেও কথা বলেছেন বলে জানান আর্চার। নিজেকে ফিরে পেতে মরিয়ে এই পেসার লিখেছেন, ‘আমি জানি যে একটা ভুল করে ফেলেছিলাম এবং সেটির ফলও ভোগ করেছি। তবে আমি অপরাধ করিনি এবং নিজেকে ফিরে পাওয়ার অনুভূতি আবার পেতে চাই।’