অক্সিজেন সিলিন্ডারের দাম ১৫ হাজার টাকা করার সুপারিশ

সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলার বিষয়টি অনুসন্ধান করতে সারা দেশের জেলাগুলোতে সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ ছাড়া অক্সিজেন সিলিন্ডারের দাম ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে অধিদপ্তর। গতকাল বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে অধিদপ্তরের দাখিল করা প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের এই সময়ে স্বাস্থ্যসেবায় অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে করা পৃথক রিট এবং এর ভিত্তিতে হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়নসংক্রান্ত এ প্রতিবেদনটি অধিদপ্তরের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে উপস্থাপন করেন। এতে ভিডিও কনফারেন্সে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার। রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী অনিক আর হক, ইয়াদিয়া জামান, এ কে এম এহসানুর রহমান ও এ এম জামিউল হক ফয়সাল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অনুসন্ধানে নিজ নিজ জেলার সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে রোগীদের চিকিৎসাসংক্রান্ত কোনো বিষয়ে অভিযোগ করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একটি হটলাইন চালু করা হয়েছে। সেখানে ই-মেইলে অভিযোগ করা যাবে এবং ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য বাতায়নে  প্রতিদিন অভিযোগ জমা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্সিজেন সিলিন্ডারের চূড়ান্ত দাম এখনো নির্ধারণ করা না হলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলিন্ডারের দাম ১৫ হাজার টাকা করতে সুপারিশ করেছে বলে জানানো হয়।

রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৭ জুলাই বেশ কয়েকটি নির্দেশনামূলক আদেশ দেয় হাইকোর্ট। এর মধ্যে ছিল ১. বিনা চিকিৎসায় রোগী ফেরতের ঘটনায় হাইকোর্টে দায়েরকৃত রিট আবেদনের অভিযোগগুলোর তদন্ত প্রতিবেদন ২১ জুলাইয়ের মধ্যে দাখিল, ২. ক্যানসারসহ জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের কভিড-১৯ থাকলে ৩৬ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষা করে চিকিৎসা অব্যাহত রাখা, ৩. ১০ কার্যদিবসের মধ্যে অক্সিজেনের দাম নির্ধারণ, ৪. বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) অস্বাভাবিক মূল্য রাখা হলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দায়ের, ৫. বিনা চিকিৎসার বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অনলাইনে অভিযোগ গ্রহণের পদ্ধতি চালু।

গত ১৫ জুন এক আদেশে হাসপাতালে অসুস্থ রোগীর চিকিৎসায় অনীহার কারণে কেউ মারা গেলে তা ‘অবহেলাজনিত মৃত্যু’ বা ‘ফৌজদারি অপরাধ’ হিসেবে বিবেচনা করা, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া, অক্সিজেন সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ ও তা প্রদর্শন, আইসিইউ ফি যৌক্তিক রাখার অভিযোগ খতিয়ে দেখাসহ ১১টি নির্দেশনা ও অভিমত এবং তা বাস্তবায়নসংক্রান্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়  হাইকোর্টের এই বেঞ্চ। পরে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরদিন ১৬ জুন বিচারপতি মো. নুরুজ্জামানের ভার্চুয়াল চেম্বার আদালত তিনটি নির্দেশনা বহাল এবং চিকিৎসাবিহীন মৃত্যু ফৌজদারি অপরাধসংক্রান্ত ছয় নম্বরটিসহ আটটি নির্দেশনা স্থগিত করে।