সরকারের ব্যর্থতায় গোটা দেশের মানুষ আজ মৃত্যু-আতঙ্কে ভুগছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, ‘কী দুর্ভাগ্য আমাদের আজকে যারা ক্ষমতায় বসে আছে, যারা বলে তারা স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করে, তারাই আজকে সচেতনভাবে এ দেশের মানুষের যে ভোটাধিকার, তার যে মৌলিক অধিকার সেগুলোকে হরণ করে নিয়ে গেছে। দুর্ভাগ্য আজকে শাজাহান সিরাজের এই স্মরণসভায় যারা আছেন, তারা এই বাংলাদেশ দেখতে চাননি।’
গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ অ্যান্ড কমিউনিকেশনসের (বিএনআরসি) উদ্যোগে সদ্য প্রয়াত বিএনপি নেতা শাজাহান সিরাজের স্মরণে ‘স্বায়ত্তশাসনের সংগ্রামকে স্বাধীনতাযুদ্ধের রূপান্তরে শাজাহান সিরাজের ভূমিকা’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। ১৪ জুলাই শাজাহান সিরাজ এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
তিনি বলেন, আজকে গোটা দেশের মানুষ এখন মৃত্যু-আতঙ্কে ভুগছে, আজকে গোটা দেশের মানুষ জীবিকার চিন্তায় অস্থির হয়ে আছে। আজকে গোটা দেশের মানুষ তাদের যে মৌলিক অধিকার, যে ভোট দিয়ে তারা তাদের নেতা নির্বাচন করবেন, পার্লামেন্ট নির্বাচন করবেন, সরকার নির্বাচন করবেন, তাদের ভবিষ্যৎকে তারা দেখবেন সেই জায়গাটুকু পর্যন্ত আজকে হরণ করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এ অবস্থা থেকে উত্তরণে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আগে সবাই যে বাংলাদেশ দেখতে চেয়েছিলেন, সেই বাংলাদেশকে নির্মাণ করতে আজকে আবার ১৯৭১ সালের মতো আমাদের একটা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে।
স্বাধীন বাংলা ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, আমি একটি কথা বলতে চাই যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার আন্দোলন একেক সময়ের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যেমন স্বায়ত্তশাসন এই দাবিও যেমন সত্য ছিল, স্বাধিকারের প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছিল এটাও তেমনি সত্য এবং স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতার আন্দোলন এটাই চূড়ান্ত রূপ দেয়।
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সাংসদ জহিরউদ্দিন স্বপনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী প্রমুখ।