জনরোষের ভয়ে প্রলাপ বকছেন আওয়ামী লীগ নেতারা : রিজভী

বিএনপি নয়, বরং সরকার জনরোষের ভয়ংকর আতঙ্কের মধ্যে থাকায় আওয়ামী লীগ নেতারা প্রলাপ বকছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থতা আর সর্বগ্রাসী দুর্নীতি-লুটপাটে বেসামাল মিডনাইট সরকার দেশে-বিদেশে বিতর্কিত হয়ে পড়ায় অস্থির হয়ে পড়েছে। নিজেদের আয়নায় এখন কেবল জনগণের দল বিএনপিকে কল্পনা করছে।’ বিএনপি জনরোষের আতঙ্কে আছে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের জবাবে গতকাল শুক্রবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী।

তিনি বলেন, ‘গত এপ্রিল মাসে ওবায়দুল কাদের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে এক ভিডিও বার্তায় বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি মনিটর করছেন। নির্দেশনা দিচ্ছেন, তদারকি করছেন। এখন জনগণ জানতে চায়, প্রধানমন্ত্রী যদি করোনা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক মনিটর করেন তাহলে ভুয়া প্রতিষ্ঠান জেকেজি হেলথ কেয়ার এবং রিজেন্ট হাসপাতাল করোনা টেস্ট ও ট্রিটমেন্টের অনুমতি পেল কেমন করে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘চাল চুরি, তেল চুরি, ত্রাণ চুরি, করোনার টেস্ট কিট দুর্নীতি, ব্যাংক লোপাট, রাজকোষ চুরি, শেয়ারবাজার লুণ্ঠন, রাতের অন্ধকারে জনগণের ভোট ডাকাতির কাজে লিপ্ত থাকার বিষয়টি শুধু দেশীয় গণমাধ্যম নয়, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও প্রচার হচ্ছে। সুতরাং জনরোষের ভয়ংকর আতঙ্কের মধ্যে আপনারা এখন প্রলাপ বকছেন।’

তিনি আরও বলেন, করোনা সংকটের কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুরবস্থা জনগণের সামনে স্পষ্ট হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় দুই-একজনকে গ্রেপ্তার, বদলি কিংবা পদত্যাগ করিয়ে কিংবা দুই-একটা মন্ত্রণালয়ে রদবদল করে পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব নয়। কারণ অপ্রিয় হলেও সত্য, নিশিরাতের ষড়যন্ত্রে যারা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিল তাদের দিয়ে পরিস্থিতি উন্নয়নের আশা করে লাভ নেই।’

সমাধানের বিষয়ে রিজভী বলেন, ‘বাস্তবতা হলো, পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে চাইলে জনগণের স্বার্থ রক্ষায় গোটা সরকারেরই খোলনলচে পাল্টাতে হবে। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীসহ এই সরকারের পদত্যাগ করতে হবে।’

সরকারের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘জনগণের কাছে এখন স্পষ্ট এই সরকারের উদ্দেশ্য জনস্বার্থ নয়, উদ্দেশ্য জনগণের অর্থ-সম্পদ লুটপাট ও টাকা পাচার। এদের আমলে দেশের ব্যাংকগুলো প্রায় দেউলিয়া, অথচ বিদেশের ব্যাংকে জমছে বাংলাদেশ থেকে পাচার করা টাকা। এই সরকারের গত এক দশকে দেশ থেকে ৯ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। রাষ্ট্রের আনুকূল্যেই এই অর্থ লোপাট ও পাচারের কাজগুলো হয়েছে।’