তিন বাংলাদেশিকে হিথরোয় বোর্ডিং পাস না দেওয়ায় তোলপাড়

সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে তিন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিককে বোর্ডিং পাস না দেওয়ায় তোপের মুখে পড়েছে কাতার এয়ারওয়েজ। গত বৃহস্পতিবার লন্ডন সময় সকাল পৌনে ৮টার একটি ফ্লাইটের বাংলাদেশগামী ওই তিন যাত্রীকে বিমানে ওঠার অনুমতি না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ দূতাবাস কাতার এয়ারওয়েজের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। এখন পর্যন্ত কাতার এয়ার ওই ঘটনার কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। এমনকি দুই পক্ষের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে কোনো সুরাহাও হয়নি। তবে ওই তিন যাত্রী বর্তমানে কাতার এয়ারওয়েজের হেফাজতে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর থেকে গত বৃহস্পতিবার লন্ডন সময় সকাল পৌনে ৮টার একটি ফ্লাইটের বাংলাদেশগামী ওই তিন যাত্রীসহ বিভিন্ন দেশের কয়েকজন যাত্রীকে বোর্ডিং পাস না দিয়ে ফিরিয়ে দেয় কাতার এয়ারওয়েজ। লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশনের একজন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। বাংলাদেশগামী ওই তিন যাত্রীর কাছে লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে দেওয়া হেলথ ডিক্লারেশন কার্ড ছিল। বাংলাদেশিদের কেন ফিরিয়ে দেওয়া হলো তার সুনির্দিষ্ট কারণ জানায়নি কাতার এয়ারওয়েজ। তবে সংশ্লিষ্ট একটি মাধ্যমে জানা গেছে, কাতার এয়ারওয়েজ এখন থেকে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের ডিক্লারেশন কার্ড গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে কারণে ওই যাত্রীদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশগামী ওই তিন যাত্রীকে বোর্ডিং পাস না দেওয়ার বিষয়ে খবর প্রকাশের পর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয় লন্ডনের বাংলাদেশ দূতাবাস। কাতার এয়ারওয়েজ হঠাৎ করে কী কারণে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিকদের বোর্ডিং পাস দেয়নি তা কাতার এয়ারওয়েজের স্থানীয় অফিসের কাছে জানতে চেয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। ইতিমধ্যে অন্যান্য এয়ারলাইনসও কভিড-১৯ সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য সনদের জন্য নতুন কোনো নীতিমালা গ্রহণ করেছে কি না, সে বিষয়ে হাইকমিশন তথ্য সংগ্রহ করছে। যথাসময়ে হাইকমিশনের ওয়েবসাইট ও ফেইসবুকের মাধ্যমে সেসব তথ্য সবাইকে জানানো হবে।

বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্র্তৃপক্ষ (বেবিচক) থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশন গত মার্চ মাস থেকে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী বাংলাদেশি ও ব্রিটিশ-বাংলাদেশি দ্বৈত নাগরিক (এনভিআরসহ) যাত্রীদের দেওয়া স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ঘোষণাপত্র সত্যায়ন করে দিচ্ছে। এ সত্যায়িত ঘোষণাপত্রটি নিয়ে যাত্রীরা বাংলাদেশ বিমান, কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস এয়ারওয়েজসহ বিভিন্ন এয়ারলাইনসে গত মার্চ, জুন ও জুলাইয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। ওই সত্যায়িত ঘোষণাপত্রটি বিভিন্ন এয়ারলাইনস ও ঢাকা বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্র্তৃপক্ষের কাছেও গৃহীত হয়েছে। এ ছাড়া লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশন বিমানযাত্রীদের পরামর্শ দিচ্ছে, যারা কাতারসহ বিভিন্ন এয়ারলাইনসে বাংলাদেশে যেতে ইচ্ছুক, তারা যেন টিকিট কেনার সময় নিজ দায়িত্বে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস থেকে যাবতীয় শর্ত যথাযথভাবে জেনে নেন। যাতে ভ্রমণের সময় তাদের কোনো অসুবিধায় পড়তে না হয়।

বেবিচকের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কিছু সংবাদমাধ্যমে লন্ডন হাইকমিশন হেলথ সার্টিফিকেট ইস্যু করেছে বলে যে খবর প্রচার করেছে, তা সঠিক নয়। হাইকমিশন থেকে কোনো যাত্রীকে এ ধরনের হেলথ সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়নি। শুধু বাংলাদেশগামী যাত্রীদের নিজস্ব স্বাস্থ্যবিষয়ক ঘোষণাপত্র সত্যায়ন করে দেওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়াটি এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং সত্যায়িত ঘোষণাপত্র নিয়ে যাত্রীরা বাংলাদেশ বিমানসহ বিভিন্ন এয়ারলাইনসে আগের মতোই ভ্রমণ করছেন। বাংলাদেশ হাইকমিশন জানাতে চেয়েছে, ব্রিটিশ-বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের কয়েকজন যাত্রীকে কাতার এয়ারওয়েজর বোর্ডিং পাস না দেওয়ার বিষয়টি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনামাত্র। এর সঙ্গে বাংলাদেশ হাইকমিশন, লন্ডন কর্র্তৃক সত্যায়িত বাংলাদেশি ও ব্রিটিশ-বাংলাদেশি দ্বৈত নাগরিক যাত্রীদের দেওয়া স্বাস্থ্যবিষয়ক ঘোষণাপত্রের গ্রহণযোগ্যতার অথবা বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বিমান যোগাযোগ অব্যাহত থাকার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।’

লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে বাংলাদেশগামী যাত্রীদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, যারা কাতারসহ বিভিন্ন এয়ারলাইনসে বাংলাদেশ যেতে ইচ্ছুক, তারা যেন টিকিট কেনার সময় নিজ দায়িত্বে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস থেকে যাবতীয় শর্ত যথাযথভাবে জেনে নেন। যাতে ভ্রমণের সময় তাদের কোনো অসুবিধায় পড়তে না হয়। বাংলাদেশগামী যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিষয়ক ঘোষণাপত্র (হেলথ ডিক্লারেশন কার্ড) সত্যায়নের বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হাইকমিশন গত মার্চ মাস থেকে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী বাংলাদেশি ও ব্রিটিশ-বাংলাদেশি দ্বৈত নাগরিক যাত্রীদের দেওয়া স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ঘোষণাপত্র সত্যায়ন করে দিচ্ছে। এ সত্যায়িত ঘোষণাপত্র নিয়ে কাতার এয়ারওয়েজসহ বিভিন্ন এয়ারলাইনসে গত মার্চ ও জুন-জুলাই মাসে বাংলাদেশ গেছেন। বোর্ডিং পাস না দেওয়ার বিষয়টি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনামাত্র। এর সঙ্গে হাইকমিশনের সত্যায়িত স্বাস্থ্যবিষয়ক ঘোষণাপত্রের গ্রহণযোগ্যতার বা বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বিমান যোগাযোগ অব্যাহত থাকার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। সংবাদমাধ্যমে হেলথ সার্টিফিকেট নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে বলা হয়, কিছু সংবাদমাধ্যম হাইকমিশন হেলথ সার্টিফিকেট ইস্যু করেছে বলে যে খবর প্রচার করেছে, তা সঠিক নয়। হাইকমিশন থেকে কোনো যাত্রীকে এ ধরনের হেলথ সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়নি। শুধু বাংলাদেশগামী যাত্রীদের নিজস্ব স্বাস্থ্যবিষয়ক ঘোষণাপত্র সত্যায়ন করে দেওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়াটি এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং এ সত্যায়িত ঘোষণাপত্র নিয়ে যাত্রীরা বাংলাদেশ বিমানসহ বিভিন্ন এয়ারলাইনসে আগের মতো ভ্রমণ করছেন।