করোনা পরিস্থিতি

স্ট্যামফোর্ডে এক দিনেই ১০৭ কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত

করোনা পরিস্থিতির মধ্যে বেসরকারি স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে গতকাল শনিবার ১০৭ কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। কোনো ধরনের পাওনাদি পরিশোধ ছাড়াই তাদের বরখাস্তপত্র ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চাকরিচ্যুত একাধিক কর্মকর্তা। তারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঈদের আগে যখন বেতন ও বোনাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তখন বিনা কারণে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে ঈদের আগে এমন সিদ্ধান্তকে অমানবিক উল্লেখ করে চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এক দিনে শতাধিক কর্মকর্তার চাকরিচ্যুতির বিষয়ে জানতে ফোন করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ফাতিনাজ ফিরোজ রেজিস্ট্রারের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। পরে রেজিস্ট্রার আবদুল মতিনকে একাধিকবার কল করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা সুপা সাদিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমাদের ধানমণ্ডি এবং সিদ্ধেশ্বরীতে দুটি ক্যাম্পাস রয়েছে। আমাদের ইউজিসি থেকে নির্দেশনা আছে ধানমণ্ডি ক্যাম্পাস পুরোপুরি গুটিয়ে সিদ্ধেশ্বরী চলে আসার বিষয়ে। তাই একটা ক্যাম্পাসে একই বিভাগে অধিক কর্মী হওয়ায় জায়গা সংকুলানসহ অন্যান্য কিছু কারণে কিছু কর্মীকে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্র্তৃপক্ষ। কভিড-১৯-এর জন্য বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেভিনিউর ওপর বেশ চাপ পড়েছে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রয়োজন হলে তাদেরকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে কর্র্তৃপক্ষের তরফে আশ্বস্ত করা হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা রাজলক্ষ্মী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত ৮ বছর ধরে আমি স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করছি। গত শুক্রবার অফিস থেকে মোবাইলে এসএমএস দিয়ে বরখাস্তপত্র নিতে ডাকা হয়। গতকাল শনিবার অফিসে গেলে পাওনাদি ছাড়াই বরখাস্তপত্র হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘করোনায় আমার স্বামীরও কিছুদিন আগে চাকরি চলে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ রীতিমতো আমাদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করেছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চাকরিচ্যুত এক কর্মকর্তা জানান, হঠাৎ করে মোবাইলে মেসেজ পাঠিয়ে তাদের বরখাস্তপত্র ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনিতে গত চার মাস ধরে ঠিকমতো বেতন দেওয়া হচ্ছে না। তার ওপরে বেতন ছাড়া ছাঁটাই করাতে মহাবিপদের মধ্যে পড়েছি।

চাকরিচ্যুত আরেক কর্মকর্তা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ব্রাঞ্চে প্রায় ১২০ জনের মতো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিনা কারণে ছাঁটাই করতে তালিকা করা হয়েছে। সবাইকে ডেকে বরখাস্তপত্র হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। গত চার মাস থেকে অর্ধেক বেতন দিচ্ছে। বর্তমানে বেতন ছাড়াই সবাইকে ছাঁটাই করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনিসহ তার পরিবারের সদস্যরা বিপদে পড়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একই দিনে ১০৭ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আগামীতে আরও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করার পরিকল্পনা করেছে কর্র্তৃপক্ষ।’