স্বাস্থ্যবিধি মেনে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ান : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যেসব এলাকায় বন্যা, সেসব এলাকার স্থানীয় সংগঠনগুলোকে সক্রিয় করে বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিতে হবে। এদিকে আবার করোনাভাইরাস; এটা নিয়েও সতর্ক থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে।

গতকাল রবিবার দলের সভাপতিম-লীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানকের মোবাইল ফোনে ভিডিও কলে যুক্ত হয়ে উপস্থিত নেতাকর্মীদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান। ত্রাণের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা রয়েছে। এবারের বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে সে প্রস্তুতিও আমরা নিয়ে রেখেছি বলেও জানান তিনি।

অতীতে বন্যার সময় দুর্যোগকবলিত এলাকায় কীভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সে বিষয়েও স্মৃতিচারণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি নিজ হাতে রুটি বানানোর কথা, খাবার বিতরণের কথা, খাবার পানি, স্যালাইন তৈরিসহ ওষুধ বিতরণের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থা যথেষ্ট রয়েছে। তারপরও আমাদের সেভাবেই তৈরি থাকতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বন্যায় যারা ঘরবাড়ি হারিয়েছে, তাদের ঘরবাড়ি করে দিচ্ছি। বন্যার্তদের আপাতত স্কুল-কলেজে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে সবধরনের সহায়তা করা হচ্ছে। করোনাভাইরাসে কৃষকদের ধান কাটাও আমরা নেতাকর্মীদের সহায়তায় ভালোভাবে করতে পেরেছি। বন্যাদুর্গত মানুষের ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছানো, খাবার বিতরণ এবং তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য-সহযোগিতা করা এটাই হবে আমাদের কাজ।’

সরকার প্রধান বলেন, ‘এবার যেহেতু করোনাভাইরাস। তারপরও কোরবানির ঈদ। অনেকেই কোরবানি দেবে। সবাই সবার মতো মানুষকে সাহায্য করতে হবে, মানুষের পাশে থাকতে হবে। স্বাস্থ্য সচেতন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশন সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে। আমাদের সবাইকেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনায় আমরা সবচেয়ে বেশি আমাদের নেতাকর্মী হারালাম। কারণ এই করোনায় সবাই কাজ করেছে। আমি খবর পাচ্ছি। আসলে এই সময়ে অনেকেই আমাদের ছেড়ে চলে গেল। আমার কাছে সব খবর আছে। আসলে এখন এমন একটা সময় যে, মারা গেলেও দেখতে যেতে পারছি না। তারপরও সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকা বন্যাকবলিত। এরপর মধ্য এলাকায় নেমে আসবে। হয়তো জুলাইয়ের শেষ দিকে মধ্য এলাকা এবং আগস্টের শেষ দিক দক্ষিণাঞ্চল বন্যাকবলিত হবে। এটা আমাদের দেশের প্রাকৃতিক নিয়ম। মধ্য উপকূলীয় এলাকায় বন্যা তেমন হয়নি। কিন্তু পদ্মার ওপারের এলাকায় এবার বন্যাটা ব্যাপক হারে দেখা যেতে পারে এবং এই বন্যাটা স্থায়ী হতে পারে। সব থেকে দীর্ঘ সময় ১৯৯৮ সালের বন্যা স্থায়ী ছিল। ১৯৮৮ সালের বন্যা ছিল দুই সপ্তাহ। ১৯৯৮ সালের বন্যা কিন্তু দীর্ঘ ৬৯ দিন ছিল। ওই সময় অনেকেই বলেছিল যে, দুই কোটি মানুষ না খেয়ে মারা যাবে। আমরা ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। আল্লাহর রহমতে কোনো মানুষ না খেয়ে মারা যায়নি। সে কারণে এবারের বন্যা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তা থেকে আমাদের কী করণীয়, সে ব্যাপারেও প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি।’

বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সুবর, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কার্যনির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেন।