করোনা সনদ জালিয়াতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী ওরফে সাবরিনা শারমিন হুসাইন ও তার স্বামী আরিফুল হক চৌধুরীর অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তিতুমীর কলেজের এক শিক্ষকসহ বেশ কয়েকজনের সাক্ষ্য নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল রবিবার অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও দুদকের উপপরিচালক সেলিনা আক্তার মনি তাদের সাক্ষ্য নেন।
সেলিনা আক্তার মনি দেশ রূপান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তিতুমীর কলেজে নমুনা সংগ্রহের বুথ বসিয়েছিল জোবেদা খাতুন সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা (জেকেজি)। তারা সেখানে কী কী কাজ করেছে, কোনো অনিয়ম করেছে কি না এক অধ্যাপকসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এসব বিষয়ে জানার চেষ্টা চলছে।
জেকেজি প্রতিষ্ঠানটি ১৫ হাজার ৪৬০ জনকে মনগড়া করোনা সনদ দিয়ে ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ ডা. সাবরিনা ও আরিফের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধান করছে দুদক।
এ বিষয়ে দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য জানান, জেকেজির করোনা সনদ জালিয়াতিসহ নানা অনিয়মের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলো তারা আমলে নিয়ে তদন্ত করছেন। তদন্তের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের মাধ্যমে তাদের ব্যাংক লেনদেন অর্থ পাচারসহ সম্পদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
করোনা পরীক্ষার সনদ জালিয়াতির অভিযোগে গত ২৩ জুন জেকেজির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল হক চৌধুরীসহ প্রতিষ্ঠানটির ছয় কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ব্যাপারে মামলা হওয়ার পর ২৪ জুন করোনার নমুনা সংগ্রহে জেকেজির অনুমতি বাতিল করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পুলিশি তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান বা সমন্বয়ক হিসেবে করোনা সনদ জালিয়াতিতে ডা. সাবরিনার নাম আসে। এরপর গত ১২ জুলাই তাকে গ্রেপ্তার করে ১৩ জুলাই গ্রেপ্তার করে দুই দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়। এছাড়া দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয় আরিফকে। রিমান্ড শেষে আরিফ ও সাবরিনা এখন কারাগারে।