দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় পশুর বাজার সরকারহাটকে কেন্দ্র করে জমে উঠছে নানা মৌসুমী ব্যবসা। এই হাটে কেউ বিক্রি করছেন চাটাই, টুকরি, গাছের গুঁড়ি। দেদার বিক্রি হচ্ছে পশুখাদ্যও।
এমনকি কোরবানির পশুর জন্য মালা, ঘন্টি, রঙিন দড়িও বিক্রি হচ্ছে। তাজা ঘাস ও খড় বিক্রেতাদেরও দেখা মিলছে এই পশুর হাটে। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তৈলারদ্বীপ সরকারহাটের পশুর বাজারে প্রতিদিন চলছে বেচাকেনা।
পশুর হাট যেমন ধীরে ধীরে জমে উঠতে শুরু করেছে, তেমনই হাটের পাশে মালা ও ঘন্টির দোকান সাজিয়ে বসেছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা।
সোমবার দক্ষিণ চট্টগ্রামের বৃহৎ পশুর বাজার সরকারহাটে গিয়ে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ধরনের মালা, ঘন্টি, রঙিন দড়িসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে দোকান সাজিয়েছেন।
সরকারহাট পশুর বাজারে ঢুকে বাম দিকে গেলেই সোজা লাইনে বেশ কয়েকটি মালা, ঘন্টির দোকান। দোকানের সামনে সুন্দর করে সাজিয়ে রেখেছেন বিভিন্ন ধরনের মালা, ছোট-বড় ঘন্টি।
গরু-মহিষ বিক্রি এখনও শুরু না হলেও কিছু কিছু ক্রেতা আগ্রহের বসে ঘন্টি বা মালার দাম জিজ্ঞাসা করছেন।
এছাড়া গরু কেনার পর ক্রেতারা যেন গরু সামলাতে পারেন এজন্য লাঠিও বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিটির দাম রাখা হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। নানা আকারের ঘন্টি বিক্রি করা হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন দামে। বিভিন্ন রঙের কাগজ ও কাপড়ের মালাও রয়েছে দোকানে।
কিছু কিছু পাইকার তাদের গরু সাজাতে ভিড় জমাচ্ছেন বাজারের পাশে বসা অস্থায়ী মালা ও ঘন্টির দোকানে। প্রকারভেদে একেকটি ঘন্টির দাম ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা। মালা বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত।
সরকারহাটের মালা ব্যবসায়ী মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘গরুর ব্যবসায়ীরা তাদের গরুর প্রতি ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য মালা বা ঘন্টি কেনেন। এর পাশাপাশি আমরা জরি ও সরিষার তেল বিক্রি করছি। এগুলো গরুর মাথায় ও শিংয়ে লাগায়। তাতে গরুর সৌন্দর্য বাড়ে। অনেকে গরু কেনার পর তাদের কোরবানি পশুকে সাজিয়ে বাড়িতে নিয়ে যান। এজন্য ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি তারাও মালা কেনেন।
বিক্রি কেমন হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এখানে প্রতি বছর মালার দোকান দিই। বেচা-বিক্রি এখনও মোটামুটি। সবেমাত্র ব্যবসায়ীরা গরু নিয়ে আসছেন। আজ থেকে বেচাবিক্রি বাড়বে।
সরকারহাটের পাইকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গরুর দাম ভালো পেতে তারা বিভিন্ন সাজে গরু সাজান। কারণ, ক্রেতারা পরিচ্ছন্ন ও সাজানো গরুর দরদাম বেশি করেন। বিশেষ করে, ক্রেতার সঙ্গে যদি ছোট বাচ্চা থাকে তাহলে তারা সেটি বেশি পছন্দ করে। গরুর গলায় মালা থাকলে গরুর প্রতি ক্রেতাদের আলাদা নজর থাকে। এজন্য গরু সাজাতে হয়।
ঈদ উপলক্ষে বেড়েছে দা-বটি ও অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি-কড়াই বিক্রির পরিমাণও।
দোকানগুলোয় গিয়ে দেখা গেছে, ক্রেতার আনাগোনা। তাজ উদ্দিন নামের এক বিক্রেতা বলেন, বড় ও মাঝারি এই দুই আকারের হাঁড়ি বেশি বিক্রি হচ্ছে। এসব হাঁড়ি বিক্রি হয় কেজি হিসেবে। মানভেদে প্রতি কেজির দাম পড়ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা।
এ ছাড়া বিক্রি হচ্ছে মাংস কাটা ও চামড়া ছাড়ানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের দা, বটি, ছুরি, চাপাতি ও ধামা। পণ্যভেদে এসবের দাম পড়ছে ৭০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা। নতুন ছুরি-বটি কেনার পাশাপাশি পুরোনোগুলো শাণ দেওয়ার কাজটিও সেরে নিচ্ছেন অনেকে।