চীনে মার্কিন কনস্যুলেট ছেড়েছেন কর্মীরা

বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষের পর সিচুয়ান প্রদেশের চেংডুতে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট বন্ধ ঘোষণা করেছে চীন। স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় সময়সীমার মধ্যে কড়া নিরাপত্তায় কনস্যুলেট ছেড়েছেন কর্মীরা। এরপরই কনস্যুলেট ভবনে প্রবেশ করেছেন চীনা কর্মকর্তারা।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির ওয়েইবো সাইটে শেয়ার করা একটি ভিডিওর বরাতে বিবিসি জানাচ্ছে, কনস্যুলেটের চারপাশের এলাকায় প্রবেশে কড়াকড়ি করছে পুলিশ। কনস্যুলেটের সামনে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা নামিয়ে ফেলা হয়েছে। সরিয়ে ফেলা হয়েছে কনস্যুলেটের ফলকও। এছাড়া প্রবেশপথের কাছের সাইনবোর্ডসহ বড় হরফে ‘ইউএস কনস্যুলেট জেনারেল’লেখা ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এ সময় স্থানীয় অধিবাসীরা কনস্যুলেটের বাইরে জড়ো হয়ে চীনের পতাকা ওড়ান এবং উল্লাস করেন।

১৯৮৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এ কনস্যুলেটের কার্যক্রম শুরু হয়। সম্প্রতি সেখানে প্রায় ২০০ কর্মী ছিল। এর মধ্যে স্থানীয় কর্মীই ছিলেন প্রায় ১৫০ জন।

কনস্যুলেটটি বন্ধ হওয়ার সময় সেখানে কত কর্মী কাজ করছিল তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে এর আগে বেশকিছু মার্কিন কূটনীতিক চীন ছেড়ে গেছেন।

বাণিজ্যযুদ্ধ, দক্ষিণ চীন সাগরের নিয়ন্ত্রণ, করোনাভাইরাস মহামারী এবং হংকংয়ে চীনের নিরাপত্তা আইন জারিসহ নানা বিষয় নিয়েই বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতির দুই দেশের মধ্যে বিরোধ চলছে। পাল্টাপাল্টি কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশ সেই বিরোধ চরমে ওঠারই বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র গত মঙ্গলবার ‘গুপ্তচরবৃত্তি এবং মেধাস্বত্ব চুরির’ অভিযোগে টেক্সাসের হিউস্টনে চীনা কনস্যুলেট বন্ধের ঘোষণা দিয়ে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কর্মীদের সেখান থেকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।

ওই সময়সীমা শেষের দিনই চীন পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে সিচুয়ানের মার্কিন কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশ দেয়। এর কারণ ব্যাখ্যায় চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় জবাব দিতেই’ কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।